প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন গ্রাহকরা। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের চলমান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক ও রপ্তানিমুখী খাতগুলোর বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং উৎপাদন অব্যাহত রেখে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যেও রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের এই সুবিধাটি আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চালু থাকার কথা ছিল। তবে এখন এটি আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে চালু রাখা হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ১০ হাজার কোটি টাকার এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড (ইএফপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে বরাদ্দ করা হবে। সব তফসিলি ব্যাংক এই সুবিধা নিতে পারবে। তবে রিফাইন্যান্স সুবিধা পেতে হলে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে নতুন করে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে।
ব্যাংকগুলোকে রপ্তানিকারকদের প্রি-শিপমেন্ট ঋণ বিতরণের এক সপ্তাহের মধ্যে রিফাইন্যান্সের জন্য আবেদন করতে হবে। দেরি হলে যুক্তিসহ অতিরিক্ত ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করা যাবে। তদারকি জোরদার করতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এই স্কিমের আওতায় এক সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি সুবিধা নিতে পারবে না।
এই তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩-এর ওপর, যারা প্রয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেবে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলারের অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।