পাইলটিং জুনে
কৃষক কার্ড বিতরণের আওতা বাড়ছে। আগের ১৫ উপজেলার সঙ্গে আরো চারটি উপজেলা যুক্ত করে মোট ১৯ উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী জুন মাসে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত ১৩ সদস্যের কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্ভাব্য সমস্যা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, দেশজুড়ে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে নেওয়ার বিষয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা। তবে কৃষিমন্ত্রী স্পর্শকাতর এ কার্যক্রম নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তদারকির মাধ্যমে সুষম বণ্টনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেগুলো সমাধান করে স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রক্রিয়ায় কৃষক কার্ড বিতরণ করতে চায় সরকার।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম খান আমার দেশকে বলেন, কৃষক কার্ড বিতরণ সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ৩১ দফার একটি হচ্ছে কৃষক কার্ড। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম এবং আগামীতে শুরু হতে যাওয়া পাইলটিং নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগের ১৫ উপজেলার সঙ্গে আরো চারটি উপজেলা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নতুন চারটি উপজেলার নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী জুন মাসের কোনো এক সময়ে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংককে সম্পৃক্ত করতে চান। বর্তমানে চলমান কৃষক কার্ড প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের দুটি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। দেশব্যাপী এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। বিশ্বব্যাংককে সম্পৃক্ত করা গেলে সরকারের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত আরেকটি সূত্র জানায়, কৃষক কার্ডের আওতায় ১৩৯ ধরনের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ছয় থেকে আটটি সুবিধার বিষয়ই বেশি আলোচিত হয়েছে। তবে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে বেশ কিছু জটিলতা সামনে এসেছে।
সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ জমির মালিকানা এখনো পিতার নামে থাকায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান কৃষিকাজ করলেও জমির নামজারি না হওয়ায় কার্ড বিতরণে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। আবার কোনো কৃষকের তথ্য সংগ্রহের পর সবকিছু ঠিক থাকলেও ব্যাংকে ভাতার অর্থ পাঠানোর সময় দেখা যাচ্ছে, বেনিফিশিয়ারি তথ্যের সঙ্গে অসংগতি রয়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নগদ প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ ও কৃষিবিমাসহ ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আগামী চার বছরে এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা।
এদিকে প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ব্লক এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।