হোম > বাণিজ্য > ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

রিজার্ভ বিনিয়োগে তিন বছরে সর্বোচ্চ আয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

রোহান রাজিব

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বাড়ছে। গত অর্থবছর রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আয় করেছে, যা গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে গত অর্থবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফাও বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষামূলক সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও আমানতে বিনিয়োগ করা থাকে। বৈশ্বিক বাজারে কুপন রেট ও সুদের হার বেশি থাকায় বৈদেশিক রিজার্ভের এই বিনিয়োগ থেকে আয় ও রিটার্নের পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ থেকে মোট সুদ আয় হয়েছে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক বন্ড ও ইউএস ট্রেজারি নোট থেকে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকার সুদ আয় হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ঋণ ও আমানত থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে সুদ আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে এসেছে আরো প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক সম্পদ থেকে মোট আয় ছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ আয়ই ছিল প্রায় ৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। তার আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪-এ এ খাতের মোট আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ রয়েছে ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ রয়েছে ৩১.৪৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু মুনাফা করে না, সরকার ও দেশের ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিয়েও আয় করে। গত দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ সুদহার বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার করেছে। পাশাপাশি সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোও বিপুল পরিমাণ তারল্য সহায়তা নিয়েছে। ফলে গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। যদিও ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয়ের পরিমাণ আরো বেশি ছিল। ওই অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

গত অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সুদ আয় খাত থেকে। তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আয় করেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। কমিশন ও ডিসকাউন্ট আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি টাকা। লভ্যাংশ পেয়েছে ২০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য আয় হয়েছে ৪৭৫ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় বা মোট মুনাফা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ওই সময় মোট মুনাফা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪০ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। এর মধ্যে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট আয়ের ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এখন বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গত অর্থবছর পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে মোট ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা খরচ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় দুই বছর ধরে নীতিসুদহার ১০ শতাংশে ছিল। গত অর্থবছরের পুরো সময় তা বহাল ছিল। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে উচ্চ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করতে হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ মুনাফা করা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংক খাতের তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এর মূল দায়িত্ব। অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের দুর্দশার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা এতটা বেড়েছে। তবে মুনাফা করতে গিয়ে কোনোভাবেই যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটি নজরে রাখতে হবে।

জানা গেছে, অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চাঙা ছিল। ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট থাকায় বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে বেশি টাকা ধার করেছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছে। আবার রিজার্ভের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করা থাকায় সেখান থেকেও ভালো মুনাফা হয়েছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে।

শিবচরে জেলে কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৮০০ শিশু নিহত, বাস্তুচ্যুত ৩৬০০০০

স্মার্টফোন সুরক্ষায় পাসওয়ার্ড নাকি পিন

রামগঞ্জে মাদক কারবারের অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলাই যখন কঠিন, বিভাজনে তীব্র মানসিক সংকট

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৬ মাসে নিহত ৪৩৬২

এআই সার্চ বনাম গুগল সার্চ

অনলাইনে নাগরিকের তথ্য বিক্রি

নারীদের সরিয়ে পুরুষদের দায়িত্ব, বিক্ষোভে বন্ধ আইফেল টাওয়ার

ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব, অদৃশ্যতা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের সংকট