বাংলাদেশ সরকারের প্রথম স্বল্পমেয়াদি ইসলামিক বন্ড (সুকুক) ইস্যুতেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া মিলেছে। ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই সুকুকের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের আবেদন এসেছে ৫৬ হাজার ৬০৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার, যা ইস্যু মূল্যের প্রায় ১০ দশমিক ২৯ গুণ। চাহিদা বেশি হওয়ায় সব আবেদনকারীকে আনুপাতিক হারে সুকুক বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টে ২৭৩ দিন মেয়াদি এই সুকুকের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এটি দেশের প্রথম স্বল্পমেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (বিজিআইএস)। বার্ষিক ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ ভাড়া (মুনাফা) হারে ইস্যু করা এ সুকুক থেকে সংগৃহীত অর্থ ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো, বিভিন্ন প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা নিলামে অংশ নেন। ব্যক্তি বিনিয়োগকারী, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন শ্রেণির মোট ৭২৭টি সফল বিডের বিপরীতে প্রায় ৮৭ দশমিক ৩৭ কোটি টাকার সুকুক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সুকুকের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী সুকুক চালুর ফলে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ব্যাংকগুলো তাদের ধারণ করা সুকুক বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ (এসএলআর) হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া এসব সুকুক জামানত রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি (আইবিএলএফ) থেকে তারল্য সহায়তা নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, আগামী ২৯ জুন থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো, বীমা কোম্পানি এবং ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি মার্কেটে এই সুকুক কেনাবেচা করতে পারবেন।