হোম > বাণিজ্য > ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে আমানতকারীদের স্মারকলিপি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলে ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আমানতকারীরা। বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ ব্যানারে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে। প্রবাসী আয় আহরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন, শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

তবে অতীতে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রক্সি পরিচালকের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে ঋণ জালিয়াতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সুবিধা প্রদান, সুশাসনের অবক্ষয় এবং দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংকটি গুরুতর সংকটে পড়ে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অডিট তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এস আলম গ্রুপের স্বার্থে ব্যাংকের ঋণনীতি ও সম্পদ ব্যবহারের ফলে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

২০২৪ সালের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির পুনরুদ্ধারের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বর্তমানে আবারো ওই গোষ্ঠী বা তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন আমানতকারীরা। তারা সতর্ক করেন, এমনটি ঘটলে শুধু ব্যাংক নয়, দেশের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে।

গভর্নরের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে আমানতকারীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের ব্যাংকে পুনঃপ্রবেশ বন্ধ করা, পাচার ও আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত আইনি সুবিধা বাতিল করা।

তারা বলেন, একটি ব্যাংকের মূল ভিত্তি হলো গ্রাহকের আস্থা। অতীতে যাদের কারণে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তাদের পুনরাগমনের আশঙ্কা তৈরি হলে আমানত উত্তোলন বাড়বে এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্মারকলিপিতে গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি দেশের কোটি গ্রাহক ও অর্থনীতির আস্থার প্রতীক। তাই ব্যাংকটিকে অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান আমানতকারীরা।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের অনিশ্চিত গন্তব্য

আভিভা ফাইন্যান্সে প্রশাসক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের খেলাপি ৫৭ হাজার কোটি টাকা

সাউথইস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ৭১ শতাংশই শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের

সরকারের ৫২ দিনে ব্যাংক ঋণ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

এস আলমকে গ্রেপ্তারের দাবি ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের

এস আলমের কাছে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরাতে চাকরিচ্যুতদের অবস্থান

এক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই

বাজার থেকে ফের ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক