শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর পরিচয় ও তথ্য শনাক্তকরণে ই-কেওয়াইসি (নো ইউর ক্লায়েন্ট) পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ (সিডিবিএল)। এ পদ্ধতি চালু হলে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) খোলার সময়ই বিনিয়োগকারী ও নমিনির ব্যক্তিগত তথ্যের সঠিকতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি কিংবা অন্যের আইডি ব্যবহার করে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি প্রকৃত বিনিয়োগকারীই শেয়ারবাজারে যুক্ত হবেন এবং বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জানা গেছে, ই-কেওয়াইসি চালুর জন্য সিডিবিএলের এ সংক্রান্ত সফটওয়্যারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) করতে হবে। সফটওয়্যার ও প্রস্তুতির বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে নির্বাচন কমিশনের একটি দল গত ১৯ আগস্ট সিডিবিএল কার্যালয় পরিদর্শন করেছে।
সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবদুল মোতালেব আমার দেশকে বলেন, বিও অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই যাতে বিনিয়োগকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়, সে জন্য আমরা ই-কেওয়াইসি পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি। এতে আগামীতে যারা বিও অ্যাকাউন্ট খুলবেন, তাদের পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবো। পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে এটি ভূমিকা রাখবে। ই-কেওয়াইসি চালুকরণে ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনাপত্তি পাওয়া গেছে।
ই-কেওয়াইসির জন্য ফি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না। এ জন্য বাড়তি কোনো ফি নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের সার্ভার ব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ ফি দিতে হয় সেটি দিতে হবে। এছাড়া সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা বাবদ কিছু ফি নেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ফি নেওয়া হবে না।
জানা গেছে, বিএসইসিতে নিবন্ধন রয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠান সিডিবিএলের ই-কেওয়াইসি সিস্টেম ব্যবহার করবে। এদের মধ্যে রয়েছে—ব্রোকারেজ হাউস, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, কাস্টোডিয়ান ইত্যাদি। ই-কেওয়াইসি চালু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিদ্যমান বিও হিসাবধারীর তথ্যও যাচাই করা হবে। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এটি চালু হতে পারে।
শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করার জন্য বিও অ্যাকাউন্ট হলো বাধ্যতামূলক একটি হিসাব। এটি অনেকটা ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো, যেখানে বিনিয়োগকারীর কেনা শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদে জমা থাকে।
বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য যেসব দলিল বা তথ্য দিতে হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিনিয়োগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্টের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা ছবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী বা চেকের পাতা (লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার জন্য), নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক কপি ছবি (নমিনির বয়স ১৮ বছরের কম হলে অভিভাবকের তথ্য দিতে হয়)। যেকোনো অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংকে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। বিও অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)-এ শেয়ার কেনাবেচায় অংশ নিতে পারেন।
বিও অ্যাকাউন্ট খোলার পর প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটি হারে নবায়ন ফি দিতে হয়। বিএসইসি বিও হিসাবের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ বা নবায়ন ফি ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে। এই ফি তিন ভাগে বিভক্ত—৫০ টাকা সিডিবিএল, ৫০ টাকা ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টস (ব্রোকারেজ হাউজ) এবং ৫০ টাকা বিএসইসি পায় । তবে আগের কোনো বকেয়া ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে পুরোনো নিয়মে ৪৫০ টাকাই প্রযোজ্য হবে। প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়ন করতে হয়। নবায়ন করা না হলে বিও হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়।