গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর এবং নোবেল বিজয়ের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সংবর্ধনা জানিয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে গ্রামীণ ব্যাংক।
গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুরে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সেখানে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যরা। পরে অনুষ্ঠিত টাউন হল সেশনে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
বক্তব্যে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনালগ্নের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কঠিন বাস্তবতা থেকেই ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ধারণার জন্ম। সে সময় চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামের দরিদ্র নারীদের মাত্র ৫ টাকা করে ঋণ দিয়ে বাঁশের ঝুড়ি তৈরি ও বিক্রির উদ্যোগের মধ্য দিয়েই এই ধারণার ভিত্তি রচিত হয়।
কীভাবে গ্রামের নারীরা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন—অক্ষরজ্ঞান অর্জন করেছেন, পরিবার ও সমাজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন এবং একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের অংশে পরিণত হয়েছেন; সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
২০১১ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এই প্রথম গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস। তিনি পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়ের পাশাপাশি ব্যাংকের চলমান কার্যক্রম আরো গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান শেষে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক কমপ্লেক্সে তার পুরোনো বাসভবন ও গ্রামীণ চেকের স্টল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং প্রশিক্ষণ ভবনের ক্যান্টিনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরদার আকতার হামিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান।