হোম > বাণিজ্য > কর্পোরেট

নতুন সরকারের সামনে রমাদানের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

২০২৫ রোজার প্রাপ্তি, ২০২৬-এর প্রত্যাশা

মেজর আহমেদ ফেরদৌস (অবঃ)

মাহে রমাদান—সংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মাস। মুসলমানদের জন্য এ মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা বয়ে আনে। একটি নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়—এ বিশ্বাসে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাই নাগরিক দায়িত্ব, ন্যায্যতা ও সামাজিক সংহতির চর্চাও এ মাসে বিশেষ তাৎপর্য পায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: নতুন অধ্যায়ের সূচনা

৩৫ বছর পর দেশে তারেক রহমানের একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৭১ সালে সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—যা কাকতালীয়ভাবে মাহে রমাদানের শুরুতেই।

এর আগে ২০২৫ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রমাদানে দুটি বিষয়ে জনগণ স্বস্তি পেয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে মত রয়েছে—

১) দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকা

২) সেহরি ও তারাবিতে তুলনামূলক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ

বিদ্যুৎ খাত: ২০২৬-এ কী চ্যালেঞ্জ?

রমাদান মানেই বিদ্যুতের বাড়তি চাপ—বিশেষত গরম ও কৃষি সেচ মৌসুমের কারণে। গ্রামীণ এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ ও আরইবি প্রায় ৩.৬৪ কোটি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে—যা প্রায় ১৪ কোটির বেশি মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত রমাদানে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় ভোক্তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—২০২৬ সালে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় কতটা প্রস্তুতি রয়েছে? বিদ্যুৎ খাতে অতীতের নীতিগত সিদ্ধান্ত, কুইক রেন্টাল ও ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন বিতর্ক রয়েছে। নতুন সরকারের সামনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ।

নিত্যপণ্যের বাজার: স্বস্তি না অস্বস্তি?

বাংলাদেশে রমাদান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে পশ্চিমা বিশ্বে বড় উৎসবের আগে মূল্যছাড়ের সংস্কৃতি দেখা যায়। তাই ২০২৬ সালে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—

খাদ্য মজুত নিশ্চিত করা; বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ; আমদানি-সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখা; তদারকি জোরদার করা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়—কার্যকর বাজার মনিটরিং ও দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি—কারণ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন পেয়েছে দলটি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আস্থা ও ভালোবাসা যেমন পারস্পরিক, তেমনি জবাবদিহিতাও দ্বিমুখী। জনগণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত—কিন্তু তার বিনিময়ে চায় স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন।

রমাদান শুধু ইবাদতের মাস নয়—এটি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের পরীক্ষার সময়ও। বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য—এই দুই খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে ২০২৬ সালের রমাদান হবে স্বস্তির। আর ব্যর্থ হলে সমালোচনাও অনিবার্য।

নতুন অধ্যায়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা—

“শুভ রমাদানুল মোবারক”—স্বস্তি, সংযম ও সুশাসনের বার্তা নিয়ে আসুক মাহে রমাদান।

লেখক: রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

রূপালী ব্যাংকে সিএমএসএমই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদারে সভা অনুষ্ঠিত

অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে তিতাস গ্যাস কর্তৃক সাঁড়াশি অভিযান

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: বিশ্ব সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার শঙ্কা

গ্রামীণ ব্যাংকের ৫০, নোবেলের ২০ বছর উপলক্ষে ড. ইউনূসকে সংবর্ধনা

২০২৫ সালের সমাপ্ত বছরে প্রাইম ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

জ্বালানি সংকট, সময় ব্যবস্থাপনা ও টেকসই অর্থনীতি: বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশের করণীয়

ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার কর্মকর্তাদের এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নগদ-নিযুক্ত প্রশাসকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি

৪০ ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করতে সিআরপি ও মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের সহায়তা প্রদান

ঢাবি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সিফাত চ্যাম্পিয়ন