বিএসইসি চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের(সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবিজি লিমিটেডের আইনী দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপকে সিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু অনিয়ম হয়েছিল। এ কারণে সিএসইর কমোডিটি মার্কেট চালুর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আইনী দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আমরা এটা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। কারণ আমাদেরকে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করতেই হবে। আইনি সমস্যা সমাধানের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে পুঁজিবাজারভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম(সিএমজেএফ) ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।
বসুন্ধরা গ্রুপকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে নির্বাচনের বিষয়ে সিএসইসির ব্যাখ্যা প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, সিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা অনেক চেষ্টা করেও অন্য কোনো বিনিয়োগকারী পায়নি; সে জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে নিতে হয়েছিল। তখন কমিশনও তাদের অনুমোদন দিয়েছিল। নতুন কমিশন বিষয়টা পর্যালোচনা করছে বলে জানান তিনি।
বসুন্ধরার সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হবে কি না, প্রশ্নে মাসুদ খান বলেন, আমরা পর্যালোচনা করছি, বাদ দেয়ার কথা তো বলিনি।
এখানে প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ২৪০ কোটি টাকা দিয়ে সিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় এবিজি লিমিটেড। এজন্য সিএসইর পর্ষদে এবিজির প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলে সায়েম সোবহান। ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে এবিজি লিমিটেডের কাছে সিএসই শেয়ার বিক্রি করে। পরবর্তীতে বসুন্ধরা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটজ লিংক ওয়ে নামে ব্রেকারেজ হাউসের লাইসেন্স কিনতে সিএসইসির ০.৫১ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করে। কিন্তু সিএসইসির কমোডিটি মার্কেট বিধিমালায় কৌশলগত বিনিয়োগকারীর শেয়ারের সংখ্যা সিএসইর মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে সিএসইর মোট শেয়ারের পরিমাণ হচ্ছে ২৫.৫১ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বসুন্ধরা গ্রুপের সব ধরনের শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কারণে অতিরিক্ত শেয়ার হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সিএসইর কমোডিটি মার্কেট চালুর বিষয়টি আটকে আছে। কমোডিটি মার্কেট চালুতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সিএসইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মজুমদার। কিন্তু শেয়ার সংক্রান্ত জটিলতায় এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যাংক থেকে নেওয়া বড় কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হবে :
ব্যাংক থেকে নেওয়া কোম্পানিগুলোর ঋণকে পাবলিক মানি উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলেই ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য করা হবে।
বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া কোম্পানিকে জনস্বার্থে বাজারে আনার পরিকল্পনা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, আমি তাদের অনুরোধ করবো, উৎসাহ দিবো। তারপরও না আসলে, যেহেতু তারা পাবলিক মানি নিয়েছে-ব্যাংক ঋণও পাবলিক মানি। কোম্পানির নিজস্ব পুঁজি ও ব্যাংক ঋণের মধ্যে একটা অনুপাত ঠিক করে দেওয়া হবে। পুঁজি ও ঋণের অনুপাত সীমা অতিক্রম করলে জনস্বার্থে তাদের তালিকাভুক্ত হতে বাধ্য করা হবে।
বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারে না। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করা যায়। ‘ইউনিলিভার বা ইনসেপ্টার মতো সলিড (মূলধন শক্তিশালী) কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনতে 'ডাইরেক্ট লিস্টিং' ও প্রক্রিয়াকে আরো বিনিয়োগকারী-বান্ধব করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই এটা দেখা যাবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে তা দৃশ্যমান হবে বলে মন্তব্য করেন মাসুদ খান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ শেয়ার ছেড়েও সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এমএমআর