হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

অগ্রিম আয়কর থেকে রেহাই পাচ্ছেন মোটর বাইকাররা

কাওসার আলম

মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে অবশেষে সরে আসছে সরকার। আগামী অর্থবছরে সব ধরনের মোটরসাইকেল অগ্রিম আয়কর থেকে মুক্ত থাকবে। এর আগে ইঞ্জিনের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বার্ষিক দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব তৈরি করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এদিকে আগামী বাজেটে কর অবকাশ বা কর রেয়াত সুবিধার লাগাম টানা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারে বিদ্যমান পার্থক্যই বহাল থাকছে। অন্যদিকে ব্যবসায়, বিনিয়োগের সুবিধার্থে করপোরেট করহারে ও ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কর-কাঠামো প্রস্তাব করা হবে আগামী বাজেটে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর বসানোর খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কয়েকশ বাইকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রাজস্ব ভবনের সামনে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। অগ্রিম আয়কর না বসানোর জন্য তারা এনবিআর চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি দেন।

বাইকারদের দাবি, মোটরসাইকেল বাংলাদেশে এখন আর বিলাসদ্রব্য নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান (রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি) এবং দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান বাহন। এমনিতেই দেশে মোটরসাইকেলের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি, তার ওপর এই বাড়তি কর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

আয়কর বসানোর বিষয়ে এনবিআরের যুক্তি ছিল, মোটরসাইকেল এখন কেবল ব্যক্তিগত বাহন নয়, অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেল মালিকরা এই অগ্রিম কর পরবর্তী সময়ে তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার সময় সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন।

এনবিআরের প্রাথমিক প্রস্তাবনা ছিলÑ১১০ সিসি পর্যন্ত কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হবে না। ১১১-১২৫ সিসির জন্য বছরে দুই হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসি পর্যন্ত বছরে পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে বছরে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে।

কিন্তু বাইকারদের কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে এনবিআর। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের যে প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে আমরা সরে আসছি। কোনো ধরনের মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর বসছে না। সরকারের উচ্চ মহল থেকে মোটরসাইকেলের ওপর এ ধরনের কোনো কর না বসানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের এককালীন নিবন্ধন ফি এবং প্রতি দুই বছর অন্তর রোড ট্যাক্স দিতে হয়, কিন্তু আলাদা কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না।

থাকছে না কর রেয়াতের সুবিধা

বর্তমানে ও অতীত মিলিয়ে ১৮টি শিল্প খাত ও ১৮টি অবকাঠামো খাতে কর অবকাশ বা কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত করদাতারও কর রেয়াত সুবিধা রয়েছে। এ ধরনের অবাধ কর অবকাশ সুবিধার লাগাম টেনে ধরা হবে। যেসব খাতের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর অবকাশ বা রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।

অন্যদিকে যেসব খাতে কর রেয়াতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নেই, সেগুলোর জন্য মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশই কর অবকাশ ও কর রেয়াতের কারণে ছাড় দিতে হচ্ছে।

ট্রাস্টের কর রেয়াতে লাগাম

ব্যক্তি বা সংগঠনের নামে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় গড়ে ওঠা দাতব্য বা ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠানকে কর রেয়াত দেওয়ার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তার লাগাম টেনে ধরা হবে বলে এনবিআর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেন, শুধু স্বনামধন্য এবং জাতীয় পর্যায়ে যেসব ট্রাস্টি বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাজের সুনাম রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হবে। ঢালাওভাবে এ সুবিধা দেওয়া হবে না। সরকারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে।

অপরিবর্তিত তালিকাভুক্তিতে কর ব্যবধান

আগামী অর্থবছরের বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কর হারের ব্যবধান অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান সাড়ে সাত শতাংশ। আগামী বাজেটেও এ ব্যবধানের হার বাড়ছে না। যদিও স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহী করতে কর হারের ব্যবধান ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

পাঁচ বছরের কর-কাঠামোর প্রস্তাব

দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা, বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের জন্য আগামী বাজেটে পাঁচ বছরের জন্য কর-কাঠামোর প্রস্তাব থাকবে। বর্তমানে পরবর্তী দুই অর্থবছরের জন্য কর-কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু আগামী বাজেটে এটি আরও তিন অর্থবছর যুক্ত করে পাঁচ বছর করা হবে।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, করপোরেট কর কাঠামোর তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে পঞ্চম বছরে করহার কমানোর একটা আভাস থাকবে।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ব্যক্তি আয়ের করমুক্ত সীমা আগামী ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থাকবে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরের জন্য ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব থাকবে আগামী বাজেটে। পরবর্তী ২০২৯-৩০ বছরেও একই করমুক্ত সীমা থাকবে। তবে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য এ সীমা সাড়ে চার লাখে উন্নীত হতে পারে বলে সূত্র জানায়।

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে জাতিসংঘ

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

আইএমএফের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ

আজ যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা রয়েছে

ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

বার্ষিক ২০ লাখ টাকা টার্নওভারে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ভ্যাট নিবন্ধন

৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা

আরো কমলো জেট ফুয়েলের দাম