ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশের অনুরোধে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফের প্রতিনিধি ইভো ক্রজনার জানিয়েছেন, সংস্থাটি বর্তমানে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছে।
আরএফআই হলো আইএমএফের সদস্যদেশগুলোকে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত অর্থসহায়তা প্রদানের একটি ব্যবস্থা। সাধারণত অতিমারি, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে অথবা হঠাৎ পণ্যমূল্য বেড়ে গেলে সদস্যদেশগুলো আইএমএফের কাছে আরএফআই থেকে অর্থ চায়। সংস্থাটি তখন পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি, অর্থাৎ কোনো শর্ত ছাড়া বা শিথিল শর্তে সদস্যদেশগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ দেয়।
অর্থ বিভাগ বলছে, ২০২০ সালে কোভিড-২০১৯ অতিমারির সময় আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ ৭৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা নিয়েছিল। এর মধ্যে আরএফআইয়ের অংশ ছিল ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বাজেট–ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতে জরুরি ব্যয়, অর্থনীতিতে চাপ কমানোর পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ওই অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। বাকি ৪৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার নেওয়া হয়েছিল আইএমএফের আরেকটি ব্যবস্থা র্যাপিড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (আরসিএফ) থেকে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। মাঝখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। সংস্থাটি থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার, যা থেকে ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে, কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। তখন সরকার আগামী জুনে বা জুলাইয়ে পাওয়ার আশা করেছিল। সেটিও নাকি নিশ্চিত হয়।
সূত্র: আলজাজিরা, অন্যান্য
এএম