হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

বাজেট ২০২৬-২৭

কাওসার আলম

ছবি: সংগৃহীত

আয়কর আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ঋণের সুদকে ‘ব্যয়’ হিসেবে বাদ দিয়ে নিট মুনাফা দেখায়। এর ফলে কোম্পানিগুলোর করে হিসেবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এটি উপস্থাপন করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো—কোম্পানিগুলো যেন ঋণের সুদের বিপরীতে বারবার ‘ব্যয়ের’ সুবিধা নিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দিতে না পারে। কোম্পানি সুদের যে ব্যয় দাবি করে, তা তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে সরকার ধরে নেবে—এটি আসলে ব্যয় ছিল না, বরং মুনাফা ছিল। তাই ওই সুদের ওপর এখন কর দিতে হবে।

ধরুন, ‘এবিসি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানির ২০২৬-২৭ করবর্ষে ঋণের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা সুদ হয়েছে। কোম্পানি এই ১০ লাখ টাকা তাদের ব্যবসা থেকে ‘ব্যয়’ হিসেবে দেখাল। এতে তাদের নিট মুনাফা কমে গেল এবং স্বাভাবিকভাবেই সরকারকে কম কর দিতে হলো। পরবর্তী তিন বছর (২০২৭-২৮, ২০২৮-২৯, ২০২৯-৩০) কোম্পানি ওই ১০ লাখ টাকার সুদ ঋণদাতাকে পরিশোধ করল না। ২০৩০-৩১ করবর্ষে (তিন বছর পর) যেহেতু ১০ লাখ টাকা সুদ তিন বছরের মধ্যেও পরিশোধ করা হয়নি, তাই নতুন আইন অনুযায়ী সরকার এই ১০ লাখ টাকাকে কোম্পানির ‘ব্যবসায়িক আয়’ হিসেবে গণ্য করবে। কোম্পানিকে তখন ওই ১০ লাখ টাকার ওপর উক্ত বছরের করের হার অনুযায়ী নতুন করে আয়কর পরিশোধ করতে হবে।

পরবর্তী কোন সময় পরিশোধ করলে কী হবে?

ওই তিন বছর পরও পরিশোধ করা হলে সেটি তখন অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে। আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যদি অপরিশোধিত সুদের এই পরিমাণটি তিন বছর পর ভবিষ্যতে কোনো এক সময় প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ করা হয়, তবে ওই পরিশোধিত অর্থ সেই বছরের জন্য ‘অনুমোদনযোগ্য ব্যয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, যদি চতুর্থ বছরে গিয়ে কোম্পানিটি সেই ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে, তবে ওই বছরের মোট আয় থেকে এই ১০ লাখ টাকা ব্যয় হিসেবে বাদ দিয়ে কোম্পানি তাদের করযোগ্য আয় কমাতে পারবে।

তবে আয়কর আইনের ধারা ৫২(১) অনুযায়ী, শুধু পরিশোধিত সুদের টাকাই ব্যয় হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ধার করা মূলধনের ওপর কোনো সুদ পরিশোধ করা হলে তা ব্যবসায়িক ব্যয় হিসেবে অনুমোদিত হবে। সে হিসাবে কোনো অপরিশোধিত সুদ অনুমোদিত ব্যয় হিসেবে গণনা করার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে কেন নতুনভাবে অপরিশোধিত সুদকে ব্যয় হিসেবে অনুমোদনের জন্য আয়কর আইন সংশোধনের প্রয়োজন পড়ল?

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাক্রুয়াল বেসিসে হিসাব করা হয়। কিন্তু আয়কর আইনে যে বিধানটি রয়েছে, সেটা করা হয়েছে কস্ট বেসিসে। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আইএফআরএসের (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেমের) সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কোম্পানির ব্যয়ের হিসাবকেও অ্যাক্রুয়াল বেসিসে করা হয়েছে। আয়কর আইনের ইংরেজি ভার্সনে বিষয়টি ঠিকই আছে, কিন্তু বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে কোনো কারণে মিসিং হয়ে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে এ ধারাটি সংযোজন করতে হচ্ছে।

অ্যাক্রুয়াল ও কস্ট বেসিসে হিসাবের পার্থক্যটি নিচের উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরা যাক, একটি কোম্পানি একটি ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার বার্ষিক সুদ ১০ লাখ টাকা।

অ্যাক্রুয়াল বেসিস : হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম (আইএফআরএস) অনুযায়ী, আপনি এই বছর টাকা পরিশোধ না করলেও ওই ১০ লাখ টাকা আপনার চলতি বছরের ‘খরচ’ । কারণ, সুদটি এই বছরেরই এবং কোম্পানি এটি পরিশোধ করতে বাধ্য। তাই আর্থিক বিবরণীতে আপনি ১০ লাখ টাকাই খরচ দেখাবেন।

কস্ট বেসিস : আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর আগে বলত—‘টাকা পকেট থেকে না গেলে (বা পরিশোধ না হলে) সেটি খরচ হিসেবে গণ্য হবে না।’ ফলে কোম্পানি ওই ১০ লাখ টাকা খরচ হিসেবে দেখালেও, ট্যাক্স রিটার্নে এনবিআর ওই খরচটি বাতিল করে দিত এবং ওই টাকার ওপর কর আরোপ করত।

সমস্যাটি কোথায় ছিল?

এতে কোম্পানির বইতে একটি বা সময়ের পার্থক্য তৈরি হতো। অ্যাকাউন্টিং বলছে এটা খরচ, কিন্তু ট্যাক্স ল বলছে এটা খরচ নয়। নতুন ধারার অর্থ হলো—এনবিআর এখন বলছে, ‘ঠিক আছে, তোমরা তো অ্যাক্রুয়াল বেসিসে এটাকে খরচ হিসেবে দেখাচ্ছ, আমরা সেটাকে অনুমোদন দেব। কিন্তু এই সুযোগ অনন্তকাল চলতে পারে না।’

অর্থাৎ, যদি তিন বছর পর্যন্ত সুদ পরিশোধ না করে ওই টাকাটা ঋণের মূলধনের সঙ্গে যোগ করে বা অন্যভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে সরকার চতুর্থ বছরে এসে সেটিকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর দাবি করবে।

বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিবির

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

জিরো কুপন বন্ডের আয়ে কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল

বৈশ্বিক সংকটেও কেন কমছে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব: এফবিসিসিআই

সবার কথা মাথায় রেখে এ বাজেট দেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

একনজরে প্রস্তাবিত বাজেটের ভালো ও মন্দ দিক

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম