হোম > বাণিজ্য > অর্থনীতি

টাকার বিপরীতে এক বছরে রুপির দাম কমেছে ১০%

ডেস্ক রিপোর্ট

ভারতীয় রুপির দরপতন এখন আর শুধু মার্কিন ডলারের বিপরীতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং পাকিস্তানি রুপি এবং বাংলাদেশি টাকার বিপরীতেও কমছে ভারতীয় রুপির মান। গত এক বছরে পাকিস্তানি রুপি ও বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে ভারতীয় মুদ্রা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাওয়াই এ পতনের প্রধান কারণ বলছেন বিশ্লেষকরা। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতীয় এক রুপির মূল্য ছিল ৩ দশমিক ২৯ পাকিস্তানি রুপি। ২০২৬ সালের মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৯০ পাকিস্তানি রুপিতে। অর্থাৎ এক বছরে ভারতীয় রুপির দরপতন হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু ২০২৬ সালেই রুপির মান কমেছে প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

এদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতেও রুপির অবমূল্যায়ন অব্যাহত রয়েছে। গত বুধবার প্রতি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির বিনিময়হার রেকর্ড পরিমাণ কমে নেমে এসেছে ৯৬ দশমিক ৯৬-এ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় রুপির সাম্প্রতিক দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশটির আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বন্ডের সুদহার বৃদ্ধির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে ভারতের মতো অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে রুপির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

শুধু পাকিস্তানি রুপির বিপরীতেই নয়, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতেও ভারতীয় রুপির দরপতন স্পষ্ট হয়েছে। গত এক বছরে প্রতি ভারতীয় রুপির বিনিময়হার প্রায় ১ দশমিক ৪২ বাংলাদেশি টাকা থেকে কমে প্রায় ১ দশমিক ২৮ টাকায় নেমে এসেছে। এতে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে রুপির মান কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ।

রুপির অবমূল্যায়নের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, আমদানি করা পণ্য এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক ব্যয় আরো বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মূলধন প্রবাহের তুলনায় দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরো গভীর হতে পারে। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে রুপির দুর্বলতা বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং ভ্রমণ ব্যয়কে প্রভাবিত করছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিদেশ ভ্রমণে কর বা সারচার্জ আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকলে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে থাকলে স্বল্পমেয়াদে ভারতীয় রুপির অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী মাসগুলোয় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের গতিপ্রকৃতি রুপির ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে খরা, মন্থর জিডিপি

আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

১ জুলাই থেকে সব রাজস্বপ্রাপ্তি এ-চালানে ট্রেজারি অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে

বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর

বিন ছাড়া জমি-গাড়ির নিবন্ধন নয়, মিলবে না পরিষেবা

ঈদের আগে শনিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে

টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, কিছু শাখা খোলা সোম–মঙ্গলবার

টেন্ডার ছাড়াই জরুরি তেল আমদানির উদ্যোগ

আস্থার সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পেনশন স্কিম