হোম > বাণিজ্য > আমদানি-রপ্তানি

পুরোনো ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে বারভিডার দৌড়ঝাঁপ

মেহেদী হাসান

পুরোনো ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। গত আগস্টে সরকার রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক ভেহিক্যালস (ইভি) আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এরপরও বসে নেই বারভিডা। সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি চেয়ে আসছে। একই সঙ্গে নানামুখী কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের অনধিক পুরোনো গাড়ি, মোটর কার, প্যাসেঞ্জার কার ও ট্রাক আমদানি করা যাবে। তবে পুরোনো বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাবে না।

এ আদেশ জারির পর থেকেই বারভিডা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। জ্বালানি খরচ, শহরের বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে এবং দ্রুত উন্নত হওয়া ব্যাটারি প্রযুক্তির কারণে ইভি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বারভিডা।

এ বিষয়ে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক আমার দেশকে বলেন, সরকার যে আমদানি নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে নতুন ইভি আনা যাবে, কিন্তু রিকন্ডিশন্ড বা পুরোনো আনা যাবে না। বাংলাদেশ যেহেতু ডব্লিউটিওর সদস্য, সেহেতু সরকার এ ধরনের বৈষম্যমূলক নীতিমালা কিন্তু করতে পারে না। সরকার বলতে পারত ব্যাটারির আয়ুষ্কাল ৭০ শতাংশের নিচে হলে আমদানি করতে দেওয়া হবে না, সেজন্য কোনো একটা এজেন্সি থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে। যেমনটা ইংল্যান্ড করেছে, সেটা ফলো করলেই কিন্তু নিরাপদ। কারণ একটা গাড়ির আয়ু ৭০ শতাংশ আছে, কিন্তু আপনি কিনছেন ৫০ শতাংশ কম দামে। আমাদের মতো দেশের জন্য এটা তো বড় অর্জন।

আমদানি নিষিদ্ধ করাটা বৈষম্যমূলক দাবি করে তিনি বলেন, এতে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হবে এবং ক্রেতা জনসাধারণকে অনেক বেশি দামে গাড়ি কিনতে হবে। এখন যেমন ওপেন মার্কেটের কারণে সরকার রেভিনিউ পাচ্ছে এবং আমরা ব্যবসা করতে পারছি, সেটা সংকুচিত হয়ে যাবে। তবে ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট বা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পলিসির ব্যাপারে জানতে চাইলে বারভিডা সভাপতি বলেন, দেশে ব্যাটারি ম্যানেজমেন্টের কোনো ব্যবস্থা নেই। সরকারের দ্রুতই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে বলে আশা করছি।

এদিকে, পুরোনো ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে বারভিডার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে ইভির চার্জিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। আবার ব্যাটারি ডিসপোজালেরও কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এসব ব্যবস্থা না করে ইভি বা রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি আত্মঘাতী হতে পারে।

বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ লিথিয়াম ব্যাটারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান বলেন, ইভিতে ব্যাটারির মেয়াদ থাকে আট বছর। প্রকৃতপক্ষে ১২ বছর হওয়ার কথা। কিন্তু পাঁচ বছর ব্যবহারের পর ব্যাটারির ডিসচার্জ রেট ও স্টোরেজ ক্যাপাসিটি কমে যায়। ফুল চার্জে যে গাড়িটা নতুন অবস্থায় ৫০০ কিলোমিটার যাবে, পাঁচ বছর পরে সেটা হয়তো ৪০০ কিলোমিটার এবং আট বছর পরে ৩০০ কিলোমিটার চলবে। লাইফ থাকবে, কিন্তু ডিসচার্জ রেট হয়ে যাবে প্রায় অর্ধেক। ফলে এই পুরোনো ব্যাটারি দিয়ে গাড়ি চলবে না, ফেলে দিতে হবে। আবার চাইলে ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারবেন না। কারণ, গাড়ির ডিজাইন প্যারামিটারের সঙ্গে ব্যাটারির সাইজ নির্ভর করে। যে কোম্পানির গাড়ি, ওই কোম্পানিরই স্পেসিফিক মডেলের ব্যাটারি লাগাতে হবে। তাই এই পুরোনো ইভি আমদানি করাটা অযৌক্তিক।

চীনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীনে ইভি স্ট্যান্ডার্ড হয়েছে ২০২০ সালের পরে। এখন কেউ পুরোনো ইভি কিনছে না। লন্ডনের রিকোয়ারমেন্ট ও স্ট্যান্ডার্ড এত হাই যে, সেখানে পরীক্ষা করার যে সিস্টেম আছে, বাংলাদেশে তা গড়ে ওঠেনি। আর আমরা যেভাবে গাড়ি তৈরি শুরু করেছি, আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির চেয়ে দেশের তৈরি নতুন গাড়ির দাম অটোমেটিক্যালি কমে আসবে। ব্যাটারির সেলটা আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা কোম্পানি থেকে আমদানি করছি। আর ব্যাটারি প্যাকটা নিজেরা তৈরি করছি।

ব্যাটারির বর্জ্য বা নষ্ট ব্যাটারি পরিণতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল মান্নান বলেন, লেড অ্যাসিড ব্যাটারিতে থাকা অ্যাসিড ও লেড পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর হ্যাজার্ড। কিন্তু লিথিয়াম ব্যাটারির উপাদানগুলো মাটিতেও আছে। ফলে প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে মাটিতে ফেলে দিলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে মিশে যাবে এবং মাটির কোনো ক্ষতি করবে না। তবে দেশে ব্যাটারি প্রসেসিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান খান বলেন, ইভির সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম বাংলাদেশে এখনো তৈরিই হয়নি, যেমন—চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা অন্যান্য বিষয়। আর চীনা যে ইভিগুলো আসছে, ১০ বছর পর এগুলো কী হবে তা কেউ জানে না। দেশের মানুষ সাধারণত একটা জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ি ২০-৩০ বছর চালায়। কিন্তু চীনা ইভির প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হয় যে, ১০ বছর পর পুরোনো গাড়িটা পুরো ফেলে দিতে হতে পারে। আর পাঁচ বছরের পুরোনো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি নিয়ে এসে যদি আবার তিন বা পাঁচ বছর পর ফেলে দিতে হয়, তবে এটা তো দেশে বর্জ্য তৈরির কাজ হচ্ছে। এসব ইভির গাড়ির ব্যাপারে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

লিথিয়াম ব্যাটারির বিষয়ে তিনি বলেন, লিথিয়াম ব্যাটারিতে মেটাল পার্টস থাকে। এগুলো সহজে ডিসপোজেবল না। মাটিতে মেটাল চলে গেলে ক্ষতিকর প্রভাব থাকতে পারে। তাছাড়া ব্যাটারি একটি রিসোর্স; ম্যানেজমেন্ট পলিসি না থাকলে আমরা একসময় ভাগাড়ে পরিণত হব। বিদেশে ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট পলিসি থাকে। আমাদেরও ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট পলিসি তৈরি করা দরকার। আর চায়না থেকে আনতে গেলে খুব সতর্ক থাকা উচিত। কারণ চীনে সম্প্রতি অনেকগুলো ইভি ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, চীন সরকার ভর্তুকি দিয়েছিল বলে অনেক কোম্পানি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন মানুষের আগ্রহ কমায় কয়েকটা কোম্পানি ছাড়া বাকিদের অবস্থা খারাপ। এছাড়া ব্র্যান্ড নিউ গাড়িতে ওয়ারেন্টি থাকে, রিকন্ডিশন্ড পুরোনো গাড়িতে তো কোনো ওয়ারেন্টি থাকবে না। জাপানে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আসার আগে কোয়ালিটি চেক হয়, চায়নায় সেরকম কোনো সিস্টেম আছে কি না জানা নেই।

চীনে দেউলিয়া হওয়া কোম্পানিগুলোর অবিক্রীত পুরোনো ইভি গাড়ি যদি এ দেশে চলে আসে, তবে আরেকটি সর্বনাশের মধ্যে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেন অধ্যাপক জিয়া।

রপ্তানি বাড়াতে নতুন ছক সরকারের

সাড়ে ১২ শতাংশ বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম, কার্যকর মধ্যরাত থেকে

আসিয়ান বাজারে রপ্তানি বাড়াতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চায় ডিসিসিআই

পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

আমদানিনির্ভর কটনেই আটকে আছে দেশের পোশাকশিল্প

পণ্য আমদানিতে মূল্যঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা চালু

ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%