চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭১৩ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটির আয় বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার বা ৫.১২ শতাংশ। জুলাইয়ে রপ্তানি কমলেও আগস্টে নিট ও ওভেন—উভয় ধরনের পোশাকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হওয়ায় দুই মাসের হিসাবে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে খাতটি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৭৪৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭১৩ কোটি ছয় লাখ ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে ৫.১২ শতাংশ।
দুই মাসের হিসাবে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৯৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ, নিট পোশাক থেকে বাড়তি আয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। দুই মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৩০ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩১৮ কোটি আট লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩.৮১ শতাংশ বা প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে অবশ্য পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক চিত্র দেখা যায়। ওই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। আগের বছরের জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৯৬ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে মাসটিতে রপ্তানি কমেছে ১.৯২ শতাংশ।
জুলাইয়ে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছে ২১৫ কোটি ৯ লাখ ডলার। আগের বছরের একই মাসে এ খাতে আয় হয়েছিল ২১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এতে নিট পোশাকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৯০ শতাংশ।
একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ আয় ছিল ১৭৮ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ফলে ওভেন পোশাকে রপ্তানি কমেছে ৩.১৬ শতাংশ। জুলাইয়ের নেতিবাচক প্রবণতার পর আগস্টে পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। মাসটিতে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত বছরের আগস্টে যার পরিমাণ ছিল ৩১৬ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে আয় বেড়েছে ১৩.৯২ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার।
আগস্টের এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে নিটওয়্যার। মাসটিতে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৭৭ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ফলে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসে এ খাত থেকে বাড়তি আয় এসেছে প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
ওভেন পোশাকেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে। এ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আগের বছরের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আয় বেড়েছে ১২.৭০ শতাংশ বা প্রায় ১৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিটওয়্যার এবং ওভেন—দুই খাতই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে নিটওয়্যারের প্রবৃদ্ধি ও বাড়তি আয়ের পরিমাণ উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে। জুলাই-আগস্টে মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের মধ্যে নিটওয়্যার থেকে এসেছে ৪১৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আর ওভেন থেকে পাওয়া গেছে ৩৩০ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ফলে মোট রপ্তানিতে নিট পোশাকের অবদান তুলনামূলক বেশি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরে মোট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫.১২ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যারে প্রবৃদ্ধি ৬.১৭ শতাংশ এবং ওভেনে ৩.৮১ শতাংশ। আগস্টের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিই মূলত দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবকে ইতিবাচক রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।