হোম > বাণিজ্য > শিল্প

মূলধনী যন্ত্র আমদানি কমেছে ৩৩ শতাংশ

রোহান রাজিব

শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এ খাতের আমদানি প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় নতুন বিনিয়োগের গতি কমেছে। উচ্চ সুদহার ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম থাকায় উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে ঋণপ্রাপ্তিও কঠিন হয়েছে। এর সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বড় প্রকল্প না থাকায় মূলধনী যন্ত্রপাতির চাহিদাও কমেছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণের বদলে ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান কার্যক্রম সচল রাখতেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। এর কারণে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫ কোটি ৫৯ ডলার। ফলে আমদানি কমেছে ৩২.৬০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা জানান, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে উদ্যোক্তারা সাধারণত নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন বা কারখানার সম্প্রসারণ করে থাকেন। অর্থাৎ শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার অর্থ হলো বিনিয়োগ থমকে যাওয়া। আর বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে না। ফলে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য অবস্থা খারাপ। পরিস্থিতি ভালো থাকলে আমদানি বৃদ্ধি পায়। বর্তমান আমদানি যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটি মূলত জ্বালানির কারণে। চলমান সংকটে নতুন করে কেউ এ খাতে বিনিয়োগে যাচ্ছে না। যার ফলে মূলধনী যন্ত্র আমদানির এই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল ইসলাম বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা সমাধান না হলে নতুন শিল্পে বিনিয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, ইউটিলিটি সুবিধা ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা চালানো সম্ভব নয়। সরকার থেকে দুই বছরেও গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না—এমন বাস্তবতা জানিয়ে দেওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন নতুন করে মেশিনারি এনে বিপদে পড়তে চাইছেন না।

তিনি বলেন, এর সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সমস্যাও এখনো কাটেনি। উচ্চ সুদ, ঋণপ্রাপ্তির সমস্যা ও ব্যাংকিং খাতের নানা সংকটের কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘুস-দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। দেশের ব্যবসায়ীরাই যখন বিনিয়োগের পরিবর্তে ঝুঁকি এড়ানোর চেষ্টা করছেন, তখন নতুন বিনিয়োগের গতি বাড়বে কীভাবে?

মাসাদুল ইসলাম আরো বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প কমে যাওয়ারও বড় প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্পনির্ভর ছিল। গত কয়েক বছরে আগের অনেক প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু নতুন প্রকল্পের কাজও তেমন শুরু হয়নি। ফলে সরকারি ব্যয় কমার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পে মূলধনী যন্ত্রপাতির চাহিদাও কমেছে।

এদিকে অন্যান্য মূলধনী পণ্য আমদানি ২৪ শতাংশ কমেছে। সবমিলিয়ে জুলাইতে মূলধনী পণ্য ২৭.২০ শতাংশ কমেছে। মূলধনী পণ্য আমদানি কমলেও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি ১৭.৮০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ৮৩.৩০ শতাংশ বেড়েছে। মূলত মধ্যপ্রচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্য অনেকে বেড়ে যায়। যার কারণে আমদানির মূল্যও বৃদ্ধি পায়। তবে পরিমাণ দিক থেকে আমদানি বাড়েনি।

তবে এ সময় তৈরি পোশাক-সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের আমদানি ১.৪০ শতাংশ কমেছে। অন্যান্য মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি প্রায় ৫.২০ শতাংশ বেড়েছে।

গত জুলাই মাসে চাল আমদানি ব্যাপক কমলেও গম বেড়েছে। সবমিলিয়ে খাদ্যশস্যের আমদানি ১৫.৬০ শতাংশ বেড়েছে। আর ভোগ্যপণ্যের আমদানি ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঋণ প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি

গত জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৭ শতাংশে, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন। ফলে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। টানা কয়েক মাস এই হার এক অঙ্কের ঘরে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে নতুন ঋণ চাহিদা কমে যায়। নতুন শিল্প স্থাপন বা বড় সম্প্রসারণ না হলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকে।

বন্ধ কারখানা সচল, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে বিতরণ করবে ৪১ হাজার কোটি টাকা। ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন করবে। উভয় ক্ষেত্রে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর ফলে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা বাংলাদেশ ব্যাংকের।

বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়ছে

রপ্তানি আয় কমা এবং আমদানি ব্যয় বাড়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। গত জুলাই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ২.০৮ বিলিয়ন ডলারে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮.৩৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ১.৫০ বিলিয়ন ডলার।

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেইল ড্রোন’ আটকের দাবি ইরানের

তেল-গ্যাস ও ঋণ ব্যয়ের বাড়তি চাপ, মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই ট্রাম্পের

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি

কমল স্বর্ণের দাম

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের পুনরুজ্জীবনে সহায়তায় আগ্রহী পাকিস্তান

গাজা গণহত্যা নিয়ে নতুন প্রামাণ্যচিত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ধারণার চেয়েও বেশি সংকুচিত হচ্ছে সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ বুধ

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪২, মামলা ৫১

কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে যাত্রীবাহী বাস, আহত ৮