দেশের চলমান জ্বালানি সংকটকে সাময়িকভাবে মোকাবিলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি দূর করে লোডশেডিং শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, অন্তত তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলা, গ্যাস অনুসন্ধান ও বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমার দেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু আলী।
আমার দেশ : গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে স্থবির শিল্প খাতকে চাঙা করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
ড. তিতুমীর : উত্তরাধিকারসূত্রে আমরা পূর্ববর্তী সরকারের অপরিকল্পিত নীতির কারণে দেশ একটি সম্পূর্ণ আমদানি-নির্ভর জ্বালানি কাঠামোর মধ্যে পড়ে যায়, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কোনো ন্যূনতম বেঞ্চমার্ক বা আপৎকালীন মজুত ব্যবস্থা ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এই সংকট সমাধানের জন্য সরকার তিন স্তরের বহুমাত্রিক একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
প্রথম ধাপটি হলো লোডশেডিং শূন্যের কোঠায় আনা। বর্তমানের প্রধানতম লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি দূর করে দেশের চলমান লোডশেডিংকে দ্রুত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। দ্বিতীয় ধাপটি হলো গ্রীষ্মকালীন বাড়তি চাহিদা ব্যবস্থাপনা। গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় ধাপ হলো ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ২০৩৪। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
আমার দেশ : জ্বালানি মজুতের পরিকল্পনা কী?
ড. তিতুমীর : জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সরকার কমপক্ষে এক প্রান্তিকের মজুত নিশ্চিতকরণ, আঞ্চলিক বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি, গ্যাস অনুসন্ধান ও বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে জ্বালানি অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করছে। জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিজেল, এলএনজিসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় জ্বালানির অন্তত এক প্রান্তিকের (তিন মাস বা ওয়ান কোয়ার্টার) সমপরিমাণ মজুত দেশে নিশ্চিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশের সব জ্বালানি অবকাঠামো কেবল এক জায়গায় সীমাবদ্ধ না রেখে মাতারবাড়ি ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি মোংলা অঞ্চলেও গড়ে তোলা হচ্ছে। মোংলা এলাকায় ইতোমধ্যে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং সিএনজি ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিডিং বা দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাপেক্স’-এর কারিগরি ও অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া অনেক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) বা পিপিএ (পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট) মডেলে জ্বালানি খাতে কাজ শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে।
আমার দেশ : বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ড. তিতুমীর : উৎপাদন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার পাঁচটি আকর্ষণীয় ও যুগান্তকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো—ধারাবাহিকতা ও করের নিশ্চয়তা, সমসুযোগের নিশ্চয়তা, উৎপাদনে ফিসকাল ও পলিসি সাপোর্ট, আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বয়, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য অবসান। কর ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ বছরের জন্য কর নীতি অপরিবর্তিত বা নিশ্চিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকদের মধ্যে বৈষম্য দূর করে সবাইকে সমমানের সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়া হবে।
দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য সংযোজন বাড়াতে পুরো বাজেটে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। আর্থিক ও অতীতে কখনো এটি করা না হলেও, বর্তমানে রিফাইন্যান্সিং বা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অতি উচ্চ সুদের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত না হন। বন্ধ কল-কারখানা চালু ও অগ্রাধিকার খাতগুলোর জন্য স্বল্প সুদে বিশেষ প্যাকেজ করা হয়েছে। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য অবসান : বিনিয়োগকারীদের লাইসেন্স ও অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট কর্মদিবসের মধ্যে সব শুল্ক ও অনাপত্তি ছাড়পত্র দিতে বাধ্য থাকবে।
আমার দেশ : লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে কী করা হচ্ছে?
ড. তিতুমীর : লাইসেন্স ও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুল্ক ও অনাপত্তি ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। ডিরেগুলেশনের সাফল্য কাগজে নিয়ম কমানো নয়; ব্যবসা শুরু করতে কত সময়, অনুমোদন ও খরচ লাগে তা কমানোই আসল।
আমার দেশ : গত ছয় মাসে কর্মসংস্থান তৈরিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই, কর্মসংস্থান বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
ড. তিতুমীর : শিক্ষিত ও সাধারণ বেকারদের হার কমাতে দ্রুত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। এটি তিনটি প্রধান কাজ করবে—দেশের সব বেকারের একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ বা রেজিস্ট্রি তৈরি করা; চাকরির বাজার ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন বা ম্যাচ-মেকিং করা ও আয়বর্ধনকারী কাজের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ করে তোলা। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অতীতে কোনো সুনির্দিষ্ট ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ না থাকা একটি দুঃখজনক বিষয়।
আমার দেশ : বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে?
ড. তিতুমীর : দেশে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়ছে। চীনারা ইতোমধ্যে তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ইকোনমিক জোনের কাজ শুরু করেছে এবং মোংলা ইকোনমিক জোনেও কাজ শুরু হয়েছে। তারা জানিয়েছে যে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে সেখানে উৎপাদন শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছে। জ্বালানি খাতে তাদের বিদ্যমান বিনিয়োগ রয়েছে এবং এই খাতে তাদের বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া থেকে প্রচুর বিনিয়োগ আসছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো চট্টগ্রামে এবং ফারইস্ট বা দূরপ্রাচ্যের দেশগুলো মাতারবাড়িতে বিনিয়োগ করছে। এমনকি চট্টগ্রাম বন্দরে পৃথিবীর এমন কোনো অঞ্চল নেই যার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো বিনিয়োগ করেনি।
তার দাবি পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া নেতিবাচক রিস্ক রেটিং সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যার কারণে এই বিনিয়োগগুলো আসছে। এই বিদেশি বিনিয়োগকে স্থায়ী করতে এবং লজিস্টিকস সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য রেলে ডুয়াল গেজের মাধ্যমে কানেক্টিভিটি বাড়ানো হচ্ছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অন্তত এক কোয়ার্টার বা তিন মাসের সমপরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আমার দেশ : রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কৌশল কী?
ড. তিতুমীর : রাজস্ব আদায় বাড়াতে করদাতাদের ওপর কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি না করে করের জাল বা ভিত্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর ফাঁকি, কর পরিহার এবং বিগত অলিগার্কদের দেওয়া অবৈধ কর অব্যাহতি বা বিশেষ সুবিধা সংস্কৃতি বন্ধ করা হচ্ছে। ফলে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে ছিল মাত্র ২ শতাংশ। সরকার ২০২৯ সালের তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে সকল সংস্কারের দৃশ্যমান প্রতিফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এজন্য প্রচলিত মৃত পরিকল্পনা বাদ দিয়ে একটি গতিশীল ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ গঠন করা হয়েছে, যা মূলত তিনটি স্তম্ভের ওপর কাজ করছে—পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং ত্বরান্বিতকরণ।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া পুঞ্জীভূত সমস্যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি এবং জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। গত ছয় মাসে সব সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তনই প্রমাণ করে যে আমরা পর্যায়ক্রমে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছি।
আমার দেশ : দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?
ড. তিতুমীর : দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমরা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত কাঠামোগত সংকট পেয়েছি। দুর্বল রাজস্ব, অসহনীয় ঋণের চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা, আমদানিনির্ভর জ্বালানি, আর্থিক খাতের বিপর্যয় এবং অলিগার্কদের আধিপত্য ছিল। এগুলো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা। তাই খণ্ডিত পদক্ষেপ নয়, কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় ফেরানোর পাশাপাশি নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।
আমার দেশ : যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবসায়ীদের আগ্রহকে কীভাবে দেখছেন?
ড. তিতুমীর : এটি বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সফর করেছেন। জ্বালানি খাতে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে এবং আরো আগ্রহ আছে। ভারতের ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছেন। পাশাপাশি চীন, কোরিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। এসব আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে জমি, জ্বালানি, অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, দ্রুত অনুমোদন ও নীতিগত নিশ্চয়তা দিতে হবে। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর না করে সবার জন্য সমান ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা হবে।
আমার দেশ : প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ড. তিতুমীর : ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অর্থনৈতিক অংশীদার। সফরটি রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে বাস্তব অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করবে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহকে বিনিয়োগে রূপ দিতে প্রকল্পভিত্তিক প্রস্তাব, দ্রুত অনুমোদন ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।