অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সম্পুর্ন বিনামূল্যে সেহরি- ইফতার এবং খাবারের আয়োজন করেছে মাস্তুল মেহমানখানা। সারা বছরের মতো পবিত্র রমজানে এ কাযক্রম রুপ নিয়েছে সেহরি-ইফতারিতে।
মাস্তুল মেহমান খানার ঠিকানা হলো বাড়ি#৭/৩, আলেক টাওয়ার (১ম তলা), ব্লক-ডি, লালমাটিয়া, ঢাকা-১২০৭।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিজের টিউশনের টাকা বাঁচিয়ে পথশিশুদের পড়ানোর মধ্য দিয়েই মানবসেবার যাত্রা শুরু করেন কাজী রিয়াজ রহমান। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় দাতব্য সংস্থার টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে দেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। ২০১২ সালে একদল তরুণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান মানবিক এই উদ্যোগ শুরু করেন। ছোট একটি উদ্যোগ থেকে শুরু হয়ে আজ এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বহু মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাতেও যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গাজা ও সুদানের মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে প্রশংসিত হয়েছে প্রতিস্টানটি।
তাদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মাস্তুল স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, আবাসন, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এছাড়া যাকাতভিত্তিক মাস্তুল স্বাবলম্বী প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে রিকশা, সেলাই মেশিন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দিয়ে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মানবিক সেবার অংশ হিসেবে মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রম ও শেল্টারহোমে আশ্রয়হীন প্রবীণদের আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।
এদিকে অসহায় মানুষের জন্য স্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টার হোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করছে। যেখানে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, স্কুল ও বৃদ্ধাশ্রমের সমন্বয়ে একটি মানবিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “মাস্তুল ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি অবহেলিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। আমাদের প্রতিটি কাজের লক্ষ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।”