ঢাকার ১৩টি আসনের ১ হাজার ৪০০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় বেশিসংখ্যক স্ট্রাইকিং ফোর্স ও নজরদারি থাকবে। ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বিশেষভাবে নজরদারি করতে পারে।
বুধবার দুপুর ১২টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
শরফ উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি এখন পর্যন্ত সঠিক পথে রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি মালামাল বিতরণের কাজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে, যাতে দিনের আলোতেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন। নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
তিনি জানান, নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার জন্য ১৩টি আসনে প্রায় ৮০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতি আসনে দুজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছেন।
ঢাকার ১৩টি আসনের প্রায় ৯৮ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো শতভাগ সিসিটিভি কাভারেজের আওতায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং আনসার সদস্যদের রিয়েল-টাইম ছবি আপলোডের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভোট গণনার কক্ষও সিসিটিভি নজরদারির আওতায় থাকবে।
তিনি আরো জানান, ভোট গণনার সময় যাতে এক মুহূর্তের জন্যও কক্ষ অন্ধকার না হয়, সেজন্য প্রতিটি রুমে এসি/ডিসি বাল্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদ্যুদ্বিভ্রাট হলেও বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শরফ উদ্দিন বলেন, প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ অনুভূত হয়নি এবং তারা নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে সহযোগিতা করছেন। সহিংসতা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই বলেও জানান তিনি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মানুষের বর্তমান চলাচল দেখে আশা করা হচ্ছে ভোটাররা ব্যাপক সংখ্যায় কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন। নির্বাচনের ফলাফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে ঘোষণার চেষ্টা করা হবে।