ঢাকা জেলা প্রশাসনের ডিজিটাল নাগরিকসেবা প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে আবেদন করে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার চার অসহায় ও প্রান্তিক ব্যক্তি। সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন দুজন স্বামীহারা নারী, একজন হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং এক মেধাবী শিক্ষার্থী।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নবাবগঞ্জ উপজেলায় সরাসরি উপস্থিত হয়ে উপকারভোগীদের হাতে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নাগরিকসেবা আরও সহজীকরণ এবং প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকেরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানিয়ে আবেদন করতে পারেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সহায়তাপ্রাপ্তদের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে জানা যায়, বারুয়াখালী ইউনিয়নের লিলি বেগম চার বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে এক মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিলেন। জীবিকা নির্বাহের পথ খুঁজতে তিনি ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের সত্যতা যাচাইয়ের পর তাঁকে একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কলাকোপা ইউনিয়নের সুমন সাহা নবাবগঞ্জ কলেজে অনার্স স্তরে অধ্যয়নরত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশেনার খরচ চালাতে তিনি আবেদন করলে তাঁকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কৈলাইল ইউনিয়নের হৃদরোগে আক্রান্ত শেখ কাজিম উদ্দিনের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা এবং আগলা ইউনিয়নের স্বামীহারা যমুনা মণ্ডল—যিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান—তাঁকে জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত লিলি বেগম বলেন, চার বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। একদিন ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন করি। এই মেশিন দিয়ে কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, যাতে মেয়েকে নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারি। জেলা প্রশাসক নিজে এসে আমাদের হাতে সহায়তা তুলে দেবেন, তা আমি কখনো ভাবিনি।
উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা তুলে দেওয়ার সময় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, নাগরিকসেবা সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকেরা সহজেই তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারছেন। আমরা আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজেই নবাবগঞ্জে এসেছি উপকারভোগীদের হাতে সহায়তা তুলে দিতে। সরকারি সেবা যেন মানুষের কাছে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অসহায় নারী, অসুস্থ ব্যক্তি ও আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন করে সরাসরি সহায়তা পাওয়ার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা গ্রহণের পথ অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের দুর্দিনে এমন সহায়তা তাঁদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।