বাগেরহাটের মোংলার জেলে ও মোটরসাইকেলচালক নিখোঁজ মিরাজ শেখকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মিরাজ শেখ নিখোঁজের ১৪০ দিনে জিজ্ঞাসা—নতুন আয়নাঘর কোথায়?’ শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানায় জেডিপি।
জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর একজন নাগরিকের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা মিরাজ শেখকে গুম করেনি। তাহলে মিরাজ শেখ কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাকে খুঁজে বের করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মিরাজ শেখ গত ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার পরিবারের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে গেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেও মিরাজকে কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব সংগঠন ঘটনাটিকে বিএনপি সরকারের আমলের প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোস্টগার্ড মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নাঈম আহমাদ বলেন, ‘অবিলম্বে এই ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে এবং মিরাজ শেখকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করার জন্য হাইকোর্ট ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১২ জুলাই দেওয়া ওই আদেশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়। কিন্তু এরপরও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাহলে কি তাঁকে নতুন কোনো আয়নাঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে? সেই আয়নাঘর কোথায়?
মিরাজ শেখের পরিবারের ওপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মর্মান্তিক আচরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম আহমাদ। তিনি বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, মিরাজ শেখের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালনের জের ধরে তাঁর স্ত্রী, মা ও বোনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রচণ্ড মারধর করে। পরে তাঁদের আটক করা হয়। এরপর তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় মিরাজের স্ত্রী, মা ও বোনকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁরা প্রায় ২৭ দিন কারাগারে ছিলেন।’
জেডিপি মিরাজ শেখের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। দলটি বলেছে, তাঁর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এরই অংশ হিসেবে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, জুলাইয়ের আন্দোলনের সংগঠন, বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাক্টিভিস্টদের গুমের ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জেডিপি।
প্রতিবাদ সভায় জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনি ইহসান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামান, প্রমুখ।