হোম > রাজধানী

হকার পুনর্বাসন নীতিমালা নিয়ে আইপিডির সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার

সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নীতিমালা করা হলেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাবিহীন, স্বেচ্ছাচারী ও অপরিণামদর্শীতার নজির রেখে যেভাবে হকারদের ফুটপাত ও সড়কে অপরিকল্পিতভাবে বসবার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, সেটা ঢাকা শহরে চলাচলকারী নাগরিকের জন্য আরও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। একইসাথে হকার সমস্যা শুধু ঢাকা শহরের সমস্যা নয়।

সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন নগর এলাকায় এ সমস্যা নগরের পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি জনজীবনে বিপর্যয় নিয়ে এসেছ। ফলে সারা বাংলাদেশের নগর এলাকার জন্যেই হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন করবার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করবার কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি হকার সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ও কমিউনিটিভিত্তিক নজরদারির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে আইপিডি।

আমাদের নগর এলাকার জন্য হকার নীতিমালায় প্রয়োজন ছিল অনেক দিন ধরেই। দেরিতে হলেও এই নীতিমালা প্রণয়ন হকারদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার সূচনা করবে। কিন্তু এই নীতিমালায় মেগাসিটিতে নাগরিকদের নিরাপদে চলাফেরার অধিকারকে কার্যত আরও সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। এতে হকার ব্যবস্থাপনা এবং ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের অধিকারের মধ্যে যেভাবে সমন্বয় করার চিন্তা করা হয়েছে, তা যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে আইপিডি।

নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ না করেই অবিবেচনাপ্রসূতভাবে হকারদের ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে যেভাবে ব্যবসা করবার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, সেটা বিস্ময়কর। অল্প কিছুদিন আগেই হকার উচ্ছেদের ফলে ঢাকা শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নাগরিকদের হাঁটবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটা পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে। এটা একই সাথে সরকারের নীতি ও কার্যকারণ এ দিগভ্রান্ত আচরণের বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি ফুটপাত ও সড়কে অবারিত ও বল্গাহীনভাবে হকারদের ব্যবসা করবার সুযোগের ন্যায্যতা ও আইনি ভিত্তির বিষয়টিও নাগরিকদের প্রশ্ন করবার সুযোগ করে দিয়েছে। ফুটপাতে চলাচল করা এবং সড়কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা করবার কোনো আয়োজন সিটি কর্পোরেশন করতে পারে কিনা সেই প্রশ্নটির যৌক্তিক মীমাংসা প্রয়োজন বলে মনে করে আইপিডি। একইসাথে যথাযথ লাইসেন্স, কর ও ফিস প্রদানের মাধ্যমে দোকান বা মার্কেটে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষেত্রেই হকারদের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে৷

প্রস্তাবিত হকার নীতিমালায় পথচারীদের জন্য কেবলমাত্র ন্যূনতম ৫-৬ ফুট জায়গা রাখবার শর্ত মেগাসিটির জন্য আধুনিক পরিকল্পনার মানদণ্ডের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এই নীতিমালায় রাস্তার আয়তন এবং বিভিন্ন এলাকার বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতাকে আমলে নেওয়া হয়নি বলে তিনি মনে করেন। নগর পরিকল্পনার সূচক অনুযায়ী বড় শহরের আবাসিক এলাকায় ৮-১০ ফুট, বাণিজ্যিক এলাকায় ১০-১৬ ফুট এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা (সিবিডি) বা উচ্চ ঘনত্ব এলাকায় ২০-৪০ ফুট ফুটপাত ডিজাইন করা হয়। নীতিমালায় মেট্রো স্টেশন, বাস স্টপ বা গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে মাত্র ৩০-৪০ ফুট দূরত্বেই হকারদের বসবার সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫০ ফুটের মধ্যে হকারদের রাখা হয় না।

নীতিমালায় উল্লিখিত হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন মার্কেট এর পাশাপাশি হকারমুক্ত এলাকা ঘোষণার বিষয়গুলো ইতিবাচক। প্রান্তিক হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা এবং আপদকালীন সহায়তার সুযোগ রাখা হয়েছে নীতিমালায়। হকারদের লাইসেন্স ও কার্ড দেবার বিষয়টি নীতিমালায় থাকলেও বায়োমেট্রিক আইডেনটিফিকেশন বা "জীবমিতি শনাক্তকরণ" এর ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। হকার নিবন্ধন এর বিষয়টি থাকলেও এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা প্রকাশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। হকার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে নাগরিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যা উদ্বেগের বলে মনে করে আইপিডি।

বর্তমানে হকাররা যেভাবে ফুটপাত দখল করে আছেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে উল্টো জনদুর্ভোগ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এটি একটি বিপজ্জনক প্রাতিষ্ঠানিক বন্দোবস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করে আইপিডি। স্থানীয় সরকার বিভাগের হকার নীতিমালা শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে, অথচ দেশের সব নগর এলাকার জন্যই নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন ছিল। প্রথমে সারা দেশের জন্য একটি জাতীয় হকার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করে পরে ঢাকার বাস্তবতা অনুযায়ী আলাদা ও আরো বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করা যেত। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক চিন্তা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রবণতা, আর ঢাকার বাইরের নগর সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পায় না।

সরকারকে অনেক সময় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হয়। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাই নগর এলাকায় যাঁরা প্রকৃত অর্থে হতদরিদ্র, তাঁদের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান কর্মসূচি বা পরিবারভিত্তিক সহায়তা স্কিমের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা করা যেতে পারে। কিন্তু অবৈধ দখলকে পুনর্বাসন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা সব হকারকেই হতদরিদ্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সবাইকে একই মানদণ্ডে বিবেচনা করাও বাস্তবসম্মত নয়। ফলে প্রান্তিক ও হতদরিদ্র হকারকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা দরকার।

ঢাকার ফুটপাত ও রাজপথকে সারা দেশের দারিদ্রের ভার নিতে হবে, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এলাকাভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে। একইসাথে মানুষের অবাধ চলাচলের অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে হকার সমস্যার সমাধান হিসেবে শুধুমাত্র হকার পুনর্বাসন না ভেবে দারিদ্র্য বিমোচনের দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্থায়ী ও মানবিক সমাধানের চিন্তা করা দরকার। পাশাপাশি হকার সিন্ডিকেট এর লাইনম্যান, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চাঁদার ভাগ পায়, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। দখলদার ও চাঁদাবাজ এই সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেবার দাবি জানাচ্ছে আইপিডি। এর জন্যে প্রয়োজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রত্যাশা করে আইপিডি।

এএস

ঢাকা শহরকে আধুনিক ক্লিন ও গ্রিন সিটি গড়তে কাজ করছে ডিএসসিসি

লালবাগে কিশোর গ্যাংয়ের গুলিতে যুবক গুরুতর আহত

এলপি গ্যাসের লিকেজ থেকে মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে আগুনের সূত্রপাত

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও কোরিয়ার ভিসা-প্রত্যাশীদের

রাজধানীতে লরিচাপায় ইঞ্জিন মিস্ত্রি নিহত

ঢাকায় হকারদের ডিসিপ্লিনে আনার চেষ্টা চলছে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক

রাজধানীতে কাপড় ব্যবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা

গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএসসিসির নতুন সিদ্ধান্ত

রাজধানীতে পুলিশের ওপর হামলাকারী সেই ছিনতাইকারীরা গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর হামলাকারী সেই ছিনতাইকারীরা গ্রেপ্তার