জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রতিটি হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার কাজ নিশ্চিত করা, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ শহীদ পরিবারের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শাহবাগ মোড় অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান তারা।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, রাষ্ট্রীয় মর্যাদাদানের বিষয়ে জোর দাবি তুলেন।
৫ আগস্ট রাজধানীর আদাবরে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন জাকির হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়। আজ সকালে তার বৃদ্ধ বাবা মো. ইউনুস ভোলা থেকে এসেছেন ছেলে হত্যার বিচার চাইতে। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে পুলিশ গুলি করে মেরেছে। ঢাকার আদাবরে এমব্রয়ডারি করে আমাদের সংসারে টাকা পাঠাতো। তার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা। আমরা চাই আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক।
এদিকে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী বাহাদুর হোসেন মনির পুলিশের গুলিতে মারা যান গুলশানে। চার ছেলেমেয়ের মধ্যে সবার ছোট এই ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা আবু জাফর। তিনিও ছেলের ছবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। তিনি বলেন, আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে থাকছি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। যতক্ষণ না আমাদের দাবি মানা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
৫ আগস্ট রাজধানী বাড্ডার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রী রমজান আলী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। স্বামীর হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রী নুরনাহার এসেছেন এই কর্মসূচিতে। জানতে চাওয়া হলে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, স্বামীকে হত্যা করার পরে পরিবার চালানো নিয়ে বেশ অসুবিধায় পড়েছি। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে আমাদের পরিবারে। টাকার অভাবে ছেলেকে কাজে দিয়েছি। নিজে মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করি। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার এসআই কামাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছে। আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। আপাতত তাদেরকে এখান থেকে সরানোর জন্য ওপর থেকে কোনো নির্দেশনা নাই। আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সাথে বসবেন, তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।