রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের প্লট মালিকদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পে পাঁচ কাঠা বা তার চেয়ে বড় আয়তনের প্লটের মালিকরা ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন করলে ফার বা ফ্লোর এরিয়া রেশিওতে বিশেষ প্রণোদনা পাবেন। গত বুধবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-২ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ভবনের নকশা জমা দিলে ভিত্তি ফারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ০.৫ ফার যুক্ত হবে।
গত ৫ অক্টোবর আমার দেশ-এ ‘৩১ বছরেও বাসযোগ্য হয়নি পূর্বাচল প্রকল্প’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটিতে ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প’ স্থবির হয়ে থাকার নানান দিক তুলে ধরা হয়।
ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজউক ১৯৯৫ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয়। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই আবাসন প্রকল্প নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৬,২২৭ একর জমির ওপর বিস্তৃত। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছরেও এই মেগা প্রজেক্ট আজও পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
এছাড়া গত ৯ অক্টোবর আমার দেশ-এ ‘২৯ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প, ঝুলে আছে ১৩ হাজার ফ্ল্যাট’ শিরোনামে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের সমস্যা তুলে ধরা হয়।
আমার দেশ-এ প্রতিবেদন দুটি প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর প্লট গ্রহীতাদের জন্য ঘোষিত এই প্রণোদনা প্যাকেজে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। গত বুধবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাজউক আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৩ ও ২৪-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিএপি ২০২২-২০৩৫)-এর তফসিল (প্রথম খণ্ড) সংশোধন করে এই নতুন নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
প্রজ্ঞাপনের নতুন বিধান অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নকশা বা পরিকল্পনা অনুমোদনপত্রের জন্য আবেদন করলে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব আয়তনের আবাসিক প্লটে সর্বোচ্চ ০.৫ প্রণোদনা ফার যুক্ত হবে।
এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমান আমার দেশকে বলেন, গেজেট জারির ছয় মাসের মধ্যে ভবনের প্ল্যান জমা দিলে পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব প্লটের মালিকরা এই প্রণোদনা পাবেন। বিষয়টির ব্যাখ্যায় তিনি জানান, পাঁচ কাঠা জমিতে সাধারণত প্রায় ৩,৬০০ বর্গফুট ক্ষেত্রফল পাওয়া যায়। এই ০.৫ প্রণোদনা পাওয়ার ফলে পাঁচ কাঠার একজন মালিক ভবনে অতিরিক্ত প্রায় ১,৮০০ বর্গফুট বাড়তি জায়গায় নির্মাণের সুযোগ পাবেন।
এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই এলাকাগুলোকে দ্রুত জনবসতিপূর্ণ ও বাসযোগ্য করে তোলা।
তবে প্রজ্ঞাপনে প্রণোদনা সুবিধার পাশাপাশি একটি কঠোর শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, যেসব প্লট মালিক এই বিশেষ ফার প্রণোদনা গ্রহণ করে চূড়ান্ত নির্মাণ অনুমোদনপত্র পাবেন, তাদের অনুমোদন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে অন্তত প্লিন্থ লেভেল (ভিটি) পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজে ব্যর্থ হলে নকশা অনুমোদনের জন্য পরিশোধিত ফির ২০ গুণ অর্থ জরিমানা হিসেবে রাজউককে দিতে হবে।