জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, আগামী কোনো নির্বাচনে একটি ভোটও কারচুপি হতে দেওয়া হবে না। ভোটারদের অধিকার রক্ষায় তারা কাজ করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়ের জন্য জীবন দেবো। আগামী কোনো নির্বাচনে একটি ভোটও কারচুপি হতে দেবো না। ভোটারদের অধিকার রক্ষা করবো।’
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর লালমাটিয়ার লাইসিয়াম কনফারেন্স সেন্টারে মোহাম্মদপুর পূর্ব থানা জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দীন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থেকে ভোট কারচুপি রুখে দিতে হবে। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিগত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে জামায়াত ১৬৮ আসন পেয়েছিল। কিন্তু ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।’ সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা চৌধুরীর বক্তব্যে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বর্তমান সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে জনগণ জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্বজনরা সমাজের পরিবর্তন চান। সেই লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে।
নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে জাতি তাদের কখনো ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন ড. রেজাউল করিম।
মহানগরী উত্তরের মজলিসে শুরা সদস্য ও মোহাম্মদপুর পূর্ব থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জিয়াউল হাসান।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল হাদী, মো. সোলাইমান, হাওলাদার আহমদ আলী, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ফরহাদ আলম ও সালাহ উদ্দিনসহ অনেকে।
সুধী সমাবেশে জুলাইয়ের শহীদ রাকিবের বাবা আবুল খায়ের, সরকারের সাবেক সচিব, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, পেশাজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।