হোম > রাজধানী

জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার

জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিযোগে মানববন্ধন। ছবি: আমার দেশ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, মাদক কারবার, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কৃষিজমি অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটসহ বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রবাসী আলমগীর কবিরের ভাই ইকবাল আহমেদ, ভুক্তভোগী বায়েজিদ হাসান শিবলীর ভাই মো. মুজাহিদুল ইসলাম এবং আলমগীর কবিরের ভাতিজা মো. জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে বক্তারা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলুকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা, মাদক কারবার, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাটসহ নানা কর্মকাণ্ডে বাবলু ও তার ঘনিষ্ঠদের প্রভাব রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলুর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেল রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হাট, জমি, বালু ভরাট ও নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের সঙ্গে জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ আহমেদ ও লতিফ মোল্লাসহ আরও কয়েকজনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রভাবের কারণে অনেকে তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলু ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কথিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীসহ যথাযথ কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ

মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি দখলের অভিযোগ তুলে এর প্রতিকার দাবি করা হয়। আলমগীরের ভাই ইকবাল আহমেদ ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, জমির খারিজ হালনাগাদ এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হলেও প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন তাঁর জমি দখলে নিয়েছেন। আলমগীর কবিরের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলুর ভাই আনিসুর রহমান রিপন, সজল শেখ, মাহফুজ আহমেদ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজন তাঁর জমিতে গিয়ে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার কথাও জানান তিনি। স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা কোনো সিদ্ধান্ত বা বিচার মানেননি বলে তার দাবি।

আলমগীরের অভিযোগ, তাঁর জমিতে টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪৬ শতাংশ জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর চার বিঘা জমি একই এলাকায় পাশাপাশি কয়েকটি অংশে রয়েছে এবং অংশগুলোর মধ্যে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার দূরত্ব রয়েছে।

আলমগীরের ছেলে ফেরদৌস হাসানও জমি দখলে রাখার অভিযোগ করেন। তার দাবি, জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য বাঁশের খুঁটি পুঁতলে রাতের বেলায় সেগুলো তুলে ফেলা হয়। জমি ব্যবহার করতে গেলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আলমগীর আরও দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচয় রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জানানো হলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হয়রানির অভিযোগ

মানববন্ধনে কালীগঞ্জের মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের হয়রানি ও মারধরের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগী বায়েজিদ হাসান শিবলীর পরিবারের দাবি, গত ১৩ আগস্ট ১৯ বছর বয়সী বায়েজিদকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অপহরণ করে মারধর করা হয় এবং পরে তার পকেটে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, বায়েজিদ মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে বক্তারপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতা আকরাম হোসেন খান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও তোলা হয়েছে মানববন্ধনে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, খালেকুজ্জামান বাবলু ও তার ঘনিষ্ঠদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এভাবে অর্ধশতাধিক মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন। বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত বন্ধ রাখা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

চুপাইর হাটে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

মানববন্ধনে চুপাইর গরুর হাটকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, হাটের ইজারা, আয়-ব্যয় এবং আশপাশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনিসুর রহমান রিপনের প্রভাব রয়েছে। হাটসংলগ্ন বাজার, ঘাট, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট-বালু এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেন বক্তারা। তাঁদের দাবি, হাটকে কেন্দ্র করে প্রতি সপ্তাহে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হলেও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

চাঁদা দাবি ও নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

প্রবাসী আক্তার হোসেন খালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে মিল-কারখানা, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে কারা ঠিকাদারি করবেন, সে বিষয়েও বাবলুর প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দুই ভাই রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাটের কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমিতে বালু ফেলার অভিযোগ করেন তিনি। বক্তারা বলেন, কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাটের ফলে কৃষি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ছয় দফা দাবি

মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমিসহ দখল হওয়া জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা। ২. বায়েজিদ হাসান শিবলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, তাঁর অবিলম্বে মুক্তি এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁকে মারধর করে পকেটে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। ৩. কৃষিজমিতে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ করা এবং ইতোমধ্যে ভরাটের অভিযোগগুলোর তদন্ত করা। ৪. মাদক কারবার এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা। ৫. খালেকুজ্জামান বাবলু ও অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাঁদের কথিত রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা। ৬. অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীরা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হয়রানি ছাড়াই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সংসদ ভবনের সামনে ব্যাগ ধরে টান, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

রংপুর বিভাগ সমিতি ঢাকার নতুন সভাপতি আজিজ, সম্পাদক ড. জিয়া

টঙ্গীর দত্তপাড়ায় যুব মুসল্লিদের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়

মিরাজ শেখকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জেডিপির

শাহজালালে ডিএফটির এভিয়েশন নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

রাসুলুল্লাহর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ হবে

হুব্বে রাসুল (সা.) ফাউন্ডেশনের সিরাত কনফারেন্স ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

মিরপুরে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস র‍্যালি

সায়দাবাদে আধুনিক এসি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করবে ডিএসসিসি