বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান বলেছেন, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিনটা সরকারের দিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ ইনসুলিন ছাড়া ওই রোগী বাঁচবে না। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বারডেম হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় তিনি নিজেদের কর্মকান্ড বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ডায়াবেটিস রোগটি পৃথিবীজুড়ে একটি মহামারী আকারে রুপ নিয়েছে। আর উন্নত দেশের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশে এই মহাকারী বৃদ্ধির হারটা বেশি। এই ডায়াবেটিস নিয়ে যুগ যুগ ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি। ১৯৫৬ সালে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের উদ্যোগে এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় সমিতির বিস্তৃতি ও কার্যক্রম বহুগুনে বেড়েছে। যা এখনো প্রচারের আড়ালে রয়েছে।
ডা. একে আজাদ খান বলেন, ‘আমরা যে সার্ভিস দেই, পৃথিবীর কোনো ডায়াবেটিক সমিতি এর এক হাজার ভাগের এক ভাগও দেয় না। তারা শুধু এডভোকেসি করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের কত ডায়াবেটিক রোগী আছে আমরা জানি না। তবে আনুমানিক হলো এক কোটি ৪০ লাখ। এছাড়া প্রি-ডায়াবেটিকের সংখ্যা আছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ডায়াবেটিক সমিতির সেবার আওতায় এসেছে। তাতে বুঝা যায় যে, অধিকাংশে ডায়াবেটিক যাদের সিরিয়াস হয়ে গেছে, তারা ঝুঁকিতে আছে। আর জটিলতা না হলে অনেকেই জানেই না যে, তার ডায়াবেটিক আছে। সেবাটা যেন আমরা সব সময় দিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টা করছি।’
বর্তমানে তিন জেলা ছাড়া (শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ছাড়া বাংলাদেশের বাকি ৬১ জেলায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির কার্যক্রম রয়েছে। সারা দেশে এই সমিতির অ্যাফিলিয়েটেড সদস্য সংখ্যা মোট ৯৪। বিভিন্ন ভাবে ডায়াবেটিস সচেতনতা ও সতর্কতায় কাজ করে যাচ্ছে ডায়াবেটিস সমিতি। একে আজাদ খান জানান, মসজিদভিত্তিক এই রোগের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তাতে কাজ হচ্ছে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন টাইপ-১ রোগীরা।
ডায়াবেটিস সমিতির প্রধান বলেন, ‘টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিক যাদের তারা ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল। ইনসুলিন না নিলে মারা যাবে। আপনার আমার যেমন অক্সিজেন দরকার, পানি দরকার, তাদের ইনসুলিন দরকার। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিনটা সরকারের দিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ ইনসুলিন ছাড়া ওই রোগী বাঁচবে না। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদেরও বাঁচার অধিকার আছে। আমি মনে করি, এই দেশের নাগরিকের ইনসুলিন পাওয়ার অধিকার আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দিতে গরীব রোগীদের সেবা দিতে। বছরে আমরা ১১৯ কোটি টাকার ফ্রি সার্ভিস দিয়ে থাকি। সরকার ৩০ কোটি টাকার মতো থোক বরাদ্ধ দেয়। বাকি অর্থ আসে ক্রস ফাইনান্স থেকে। কেউ যদি অনুদান দিতে চায়, দিতে পারেন। যদি কেউ একটি বেডও দেন, সেখানে যে রোগীই ভর্তি হন, বিনা পয়সা সবসময় ফ্রি সার্ভিস পাবে।’
প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করা যায় বলে জানিয়ে ডা. একে আজাদ বলেন, ‘পৃথিবীতে ডায়াবেটিস বেড়ে যাচ্ছে। এটা কিন্তু রোধ করা যায়। প্রায় আশি ভাগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। তবে মুটিয়ে যেন না যান।’
মত বিনিময় সভায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সদস্য সচিব মুহাম্মদ আবু তাহের খান, জাতীয় কাউন্সিলর মতিউর রহমান লাল্টুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।