পবিত্র মক্কা মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অপচেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেছেন, পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, মক্কা মুকাররমা ও মদীনা মুনাওয়ারা মুসলমানদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান। কাবা শরীফকে কেন্দ্র করে বিশ্বের মুসলমানদের ঈমানি আবেগ, ভালোবাসা ও আত্মিক বন্ধন গড়ে উঠেছে। ফলে পবিত্র মক্কা নগরীর নিরাপত্তার প্রতি সামান্য হুমকিও মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বিরোধ, আঞ্চলিক সংঘাত কিংবা সামরিক উদ্দেশ্যই পবিত্র হারামাইন শরীফাইনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার বৈধতা দিতে পারে না। পবিত্র ভূমিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাবমুক্ত রাখা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব।
মাওলানা রাব্বানী আরও বলেন, মক্কা মুকাররমাকে লক্ষ্য করে হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে Organization of Islamic Cooperation (ওআইসি) এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সংঘাত নিরসনে দায়িত্বশীল কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। পবিত্র ভূমির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন যেকোনো তৎপরতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি পবিত্র মক্কা ও মদীনার নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় সৌদি আরবের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা শুধু একটি রাষ্ট্রের বিষয় নয়; এটি বিশ্বের মুসলমানদের অভিন্ন ধর্মীয় অনুভূতি ও দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে পবিত্র দুই নগরীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ, সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।