ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রাম ও গাজার মজলুম জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব আল-কুদস সপ্তাহ’। মঙ্গলবার রাজধানীর জামি'আ ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদরাসায় আয়োজিত এক সেমিনার ও বিশেষ বার্তার মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদ আহূত আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ‘আল-কুদস গ্লোবাল উইক বাংলাদেশ’ এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। আয়োজনের অন্যতম সহযোগী ছিল ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ‘বিশ্ব আল-কুদস সপ্তাহ’র কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদের বাংলাদেশ সমন্বয়ক এবং ইস্তাম্বুলের দারুল ফালাহ মাদরাসার শিক্ষক রাশেদ কাউসার।
সেমিনারে আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ উপলক্ষে তৈরি করা বিশেষ বার্তা পাঠ করে শোনান জামি'আ ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদরাসার সদরুল মুদাররিস মাওলানা ফারুক আহমেদ। প্রেরিত বার্তায় ফিলিস্তিন ও গাজার বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ওলামায়ে কেরামের জোরালো ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং আল-আকসার সুরক্ষা কেবল একটি আঞ্চলিক লড়াই নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে ফিলিস্তিনের প্রকৃত অবস্থা ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব কুদস সপ্তাহের বাংলাদেশিদের দায়িত্ব সম্পর্কে বার্তা শোনান, লালমাটিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মাসরুরুল হক। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও কবি সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, মুফতি শফি উল্লাহ ও মুফতি শারাফাত শরীফ এবং দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক মনযূরুল হক।
সেমিনার শেষে ফিলিস্তিন, গাজা ও সারা বিশ্বের নিপীড়িত মুসলমানদের মুক্তি ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জামি'আ ইসলামিয়া লালমাটিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মাদ ইসমাঈল।