আমার দেশ-এর নাম ও লোগো ব্যবহার করা ব্যাগ মোটরসাইকেলে ঝুলিয়ে রাজধানীর সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে গিয়ে নিজেকে আমার দেশ-এর কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এক ব্যক্তি। পরে সেখান থেকে অন্যের হেলমেট নিয়ে চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ভিডিও ক্যামেরায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ‘আমার দেশ’-এর কোনো সাংবাদিক, কর্মী বা প্রতিনিধিই নন। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো-হ ১৮-১৯১১ নম্বরের একটি মোটরসাইকেলে করে ওই ব্যক্তি বেরিয়ে যাচ্ছেন।
মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ঝোলানো রয়েছে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার লোগো-সংবলিত একটি ব্যাগ। রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) কার্যালয়ে গিয়ে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজেকে ‘আমার দেশ’-এর সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সেখান থেকেই অন্য একজনের হেলমেট নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ‘আমার দেশ’-এর নাম ব্যবহার করে এমন ভুয়া পরিচয়কারীদের নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে আমার দেশ। কারণ, শুধু এই ঘটনাই নয়—এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে পত্রিকাটির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে অনৈতিক সুবিধা চাওয়া, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা প্রতারণার চেষ্টার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ‘আমার দেশ’ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা ওই ব্যক্তি পত্রিকাটির কেউ নন। তার কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডের দায় কর্তৃপক্ষের নয়।
আমার দেশ-এর ভুয়া পরিচয় দিয়ে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা বেশ কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি ‘আমার দেশ’ এর নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়া প্রেস পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। ওই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পত্রিকার সাংবাদিক বা প্রতিনিধি নন এবং তার ব্যবহৃত পরিচয়পত্রও জাল। একইসঙ্গে এ ধরনের পরিচয়পত্র দেখানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘আমার দেশ’-এর পরিচয় নকল করার প্রবণতা দেখা গেছে। গত আগস্টে পত্রিকাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করে অন্তত ৫১টি ভুয়া ফেসবুক পেজ থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়। এসব পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও উঠে।
ফেসবুকেও চলছে পরিচয় নকল-
‘আমার দেশ’-এর নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর একাধিক ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে ফ্যাক্টচেকিং সংস্থার অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে। ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পত্রিকাটির আদলে তৈরি একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড শনাক্ত হয়েছে। এমনকি রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানেও ‘আমার দেশ’-এর লোগো ও ডিজাইন নকল করে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরির একাধিক ঘটনা উঠে এসেছে। ফলে ডিএফপি কার্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাটিকে শুধু একটি হেলমেট চুরির ঘটনা হিসেবে দেখলে এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়।
একজন ব্যক্তি একটি সংবাদপত্রের নাম ও লোগো ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সুযোগ পেলেন কীভাবে—সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি।
‘আমার দেশ’ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে এ ধরনের পরিচয়কারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও এ ধরনের ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।