কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য ও দালালদের দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার দুপুরে দুদকের ঢাকা প্রধান কার্যালয় থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।
দুদক জানায়, তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে প্রাথমিকভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে দুদক জানিয়েছে।
দুদক জানায়, রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সে হিসাবে দৈনিক আদায় করা ঘুষের অঙ্ক কমপক্ষে ২০-২৫ লাখ টাকা। ঘুষের শতকরা ৭০ শতাংশ চলে যায় কতিপয় অসাধু সাবরেজিস্ট্রারের পকেটে। এছাড়া টাকার ভাগ বাটোয়া হয়ে দালাল, পিয়ন, অফিস সহকারী, মোহরার, এক্সট্রা মোহরার বা নকলনবিশদের মধ্যে। ভুয়া নামজারিসহ প্রয়োজনীয় আরও কিছু জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, সাড়ে তিন কোটি টাকার জমি বিক্রয় হয়েছে কিন্তু, দলিলে দেখানো হয়েছে ১ কোটি টাকা এমন অভিযোগ আসে দুদকের কাছে। এছাড়াও নকল দলিলে করে অপরের জমির অভিযোগ আসে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
সূত্র জানায়, অভিযানে দুদকের এনফোর্সমেন্ট শাখা দ্রুতই একটি প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিবেন। অভিযান চলাকালে দুদকের কর্মকর্তারা রেজিষ্টারের নাম ও কোন এলাকার জমি কোন রেজিষ্টারের কাছে রেজিস্টেশন হবে তার তালিকা দরজার সামনে টাঙ্গানোর জন্য বলা হয়েছে।