আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজধানীর তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলিসহ অন্যতম শুটার মো. রহিমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ডিবির একটি দল নরসিংদী জেলার মাধবদী থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় উল্লিখিত অস্ত্র ও গুলি। এ ঘটনায় মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়ার হোটেল সুপার স্টারের গলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই মধ্যে রহিমসহ মোট পাঁচজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আরো জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ডিবির অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি আভিযানিক দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. রানা মোল্লা (২৬) ও নূর মোহাম্মদ (৩২)।
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ডিবির চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।