শিশু-কিশোরদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে বের করে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শৃঙ্খলাবোধ, সাহস, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে বাংলাদেশ স্কাউটস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ স্কাউটস ঢাকা অঞ্চলের আয়োজনে ‘মডেল কাব হলিডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, স্কাউট মানেই শৃঙ্খলা। অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদাভাবে গড়ে তোলা এবং নিজের দায়িত্ব ও কর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়াই স্কাউটিংয়ের অন্যতম শিক্ষা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরেরা খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর যে চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের ডিভাইসের হাত থেকে দূরে রাখতে চাই। আমরা একটি মাদকমুক্ত সমাজ করতে চাই। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতি গড়ে তুলতে চাই, যারা আগামী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলাভিত্তিক বিষয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
স্কাউটদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আমিনুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্কাউটদের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে তাঁর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। আজকের অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যৎ জীবনেও কাজে লাগাতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের এগিয়ে যাওয়ার পথে তাঁদের আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু-কিশোরেরা যেন সততা, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ পরিবার থেকেই তৈরি করতে হবে।
আমিনুল হক আরও বলেন, আগামী বাংলাদেশ হবে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ—যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে মানবিকতা, আন্তরিকতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার ও বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্কাউটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, আজ তারা যে শিক্ষা পেয়েছে, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে হবে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক, অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের ধন্যবাদ জানান।