হোম > রাজধানী > ঢাকা দক্ষিণ

দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে পাঁচ দিন ধরে গ্যাসের ৫০ হাজার লাইন বন্ধ

দায় নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি

রাকিব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের অন্তত ৪০টি এলাকায় তিতাস গ্যাসের প্রায় ৫০ হাজার সংযোগ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। বারবার অভিযোগ করেও গ্যাস চালু না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মাঝে। তারা বলছেন, সবাই নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে চাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শুভাঢ্যা খাল খননের সময় গ্যাসলাইনে সমস্যা হওয়ার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তা মেরামতের কোনো অগ্রগতি নেই। বারবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের জিনজিরা অফিসে গিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তিতাস গ্যাসের জিনজিরা জোন-৫ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেনি। এ অবস্থায় যেকোনো সময় তিতাস গ্যাস অফিসে হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, গত রোববার থেকে তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। শুভাঢ্যা খাল খননকালে গ্যাসলাইনে সমস্যা তৈরি হয়। ফলে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের বেগুনবাড়ী, ঝাউবাড়ী, পূর্ব শুভাঢ্যা, বৃহত্তর চুনকুটিয়ার ছয়টি এলাকা, কালীগঞ্জ, চরকালীগঞ্জ, গুদারাঘাট, খেজুরবাগ, পারগেন্ডারিয়া, মীরেরবাগ, ইকুরিয়া, হাসনাবাদসহ প্রায় ৪০টি এলাকার ৫০ হাজার গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে এলাকার ৩-৪ লাখ সাধারণ মানুষ। হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হওয়ায় তারা পড়েছে চরম বিপাকে। এর জন্য এলাকাবাসী তিতাস গ্যাস অফিসের অবহেলাকে দায়ী করছেন।

শুভাঢ্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও গ্যাস ঠিকাদার রফিক জানান, গোলাম বাজারের ঝাউবাড়ী এলাকা থেকে শুভাঢ্যা খালের নিচ দিয়ে বেগুনবাড়ী এলাকায় গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। এখান থেকেই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ৪০টি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুভাঢ্যা খাল খননের সময় ওই লাইনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বারবার গ্যাস অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। জিনজিরা অফিস কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি তাদের দায়িত্ব নয়, বিষয়টি দেখবে ইমার্জেন্সি টিম। ওই টিম আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্যার জায়গা নির্ধারণের দায়িত্ব এলাকাবাসীর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।

বেগুনবাড়ীর বাসিন্দা সবুজ মিয়া জানান, তিনি ৩০-৪০ জন এলাকাবাসীকে নিয়ে জিনজিরা গ্যাস অফিসে গেলে অফিস ম্যানেজার নাজির হোসেন তাদের জানান, এটি অফিসের কাজ নয়, এটা ইমার্জেন্সি টিমের দায়িত্ব। এরপর কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়েই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

পারগেন্ডারিয়া এলাকার গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন, এমনিতেই গ্যাস সংকট লেগে থাকে। অনেক সময় রাতে উঠে রান্না করতে হয়। এখন পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ থাকায় সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

কালীগঞ্জ এলাকার গ্রাহক নজরুল ইসলাম জানান, পাঁচদিন ধরে গ্যাস বন্ধ থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব দিচ্ছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তারা জিনজিরা গ্যাস অফিস ঘেরাও করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের জিনজিরা অফিসের ম্যানেজার নাজির হোসেন আমার দেশকে জানান, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। বিভিন্ন এলাকার লোকজন অফিসে এলে তাদের ইমার্জেন্সি টিমের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্যাসলাইনের সংস্কার করা ইমার্জেন্সি টিমের দায়িত্ব, এটি জিনজিরা অফিসের কাজ নয়।

তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল মমিন তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লোক পাঠানো হবে।

তিতাস গ্যাসের ইমার্জেন্সি টিম ঢাকা দক্ষিণের ম্যানেজার মোক্তার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, তাদের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে কোথায় গ্যাসলাইনে লিকেজ হয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। লিকেজের জায়গা চিহ্নিত করা গেলে দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হবে। তিনি এলাকাবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

সায়েন্সল্যাবে সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আহত