যশোরের কেশবপুরে প্রায় আট মাস ধরে আত্মগোপনে থাকা আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে শনাক্ত করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ভিডিপি দলনেতারা। তাদের সাহসিকতা, সতর্কতা ও বিচক্ষণতায় অবশেষে ওই আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানা গেছে।
কেশবপুর উপজেলার ২ নম্বর সাগরদাড়ি ও ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় ভিডিপি দলনেতারা আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ওই আসামির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পান। তার বিরুদ্ধে আদালতের কারাদণ্ডসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে আসছিল। তবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না।
পরে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য যাচাই করে ভিডিপি দলনেতারা অত্যন্ত সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা আসামির অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর তাকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. হান্নান সরদার। তিনি কেশবপুর উপজেলার বরণডালি, সরসকাঠি গ্রামের মো. আব্দুস সোবহানের ছেলে।
আসামিকে শনাক্ত ও পুলিশের কাছে হস্তান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কেশবপুর উপজেলার ২ নম্বর সাগরদাড়ি ইউনিয়নের ভিডিপি দলনেতা মো. আলী হোসেন এবং ১০ নম্বর সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভিডিপি দলনেতা তালিব হোসাইন।
পুলিশ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠায়।
এ ঘটনায় ভিডিপি দলনেতাদের দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের এ ধরনের ভূমিকা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কেশবপুরে পলাতক আসামিকে শনাক্ত করে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ঘটনাও সেই দায়িত্বশীল ভূমিকার একটি উদাহরণ।