দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিক্রয় ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন প্লাজা সারাদেশে একযোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে জনসাধারণকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বুধবার দেশের ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় এই কর্মসূচি একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় ওয়ালটন প্লাজার গ্রাহক ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে ফ্রি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোড ওয়ালটন প্লাজায় ফিতা কেটে এই মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি ওয়ালটন প্লাজার ‘হ্যাপিনেস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রজেক্ট’-এর আওতায় গ্রাহকদের জন্য বিশেষ হটলাইন নম্বর (০৯৬০৬-৯৯০০২৯) উদ্বোধন করেন। এই হটলাইন নম্বরে কল করে গ্রাহকরা ভবিষ্যতে ফ্রি চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, মেডিক্যাল ক্যাম্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচিও পরিচালিত হয়। সংগৃহীত রক্ত থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।
এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ওয়ালটন প্লাজা শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে। সারাদেশে একযোগে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প তারই অংশ। ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ‘কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা পলিসি’সহ বিভিন্ন গ্রাহকবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে সারা বছরই ক্রেতাদের জন্য নানা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ওয়ালটন প্লাজা গ্রাহকদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর আঞ্জুম, হেড অব এইচআর মো. ফয়সাল ওয়াহিদ, চিফ সেলস এক্সিকিউটিভ এম এম নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সারাদেশের ওয়ালটন প্লাজার প্রতিনিধিরা এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ।
ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ওয়ালটন প্লাজা শুধু পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গ্রাহকদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষায়ও কাজ করছে। বিশ্বের মধ্যে ব্যতিক্রমী ‘কিস্তি ক্রেতা ও পরিবার সুরক্ষা নীতি’ এর মাধ্যমে গ্রাহকদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এই নীতির আওতায় কিস্তিতে পণ্য ক্রয়কারী গ্রাহকদের সুরক্ষা কার্ড প্রদান করা হয়। কার্ডধারীর মৃত্যু হলে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বকেয়া কিস্তি সমন্বয় ও পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি গ্রাহক পরিবারকে তিন কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কিস্তি বকেয়া মওকুফ করা হয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষা কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ ছাড় ও সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওয়ালটন প্লাজার এই উদ্যোগ গ্রাহকসেবা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।