উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় উচ্চ কার্যক্ষমতার কম্প্রেসর উৎপাদনে নতুন এক মাইলফলক অর্জন করলো বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট ও একমাত্র কম্প্রেসর প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এবার ৫০ বছরেরও বেশি ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয়ান এসিসি ব্র্যান্ডের ‘কাপ্পা’ সিরিজের উচ্চ কার্যক্ষমতা সম্পন্ন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কমপ্যাক্ট ডিজাইনের কম্প্রেসর উৎপাদন শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র কম্প্রেসর কারখানায় এসিসি ব্র্যান্ডের কাপ্পা কম্প্রেসর উৎপাদন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এস এম মাহবুবুল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমডি এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, এসিসি’র কাপ্পা কম্প্রেসর উৎপাদন ওয়ালটন তথা বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং গর্বের বিষয়। স্মার্ট ডিজাইন, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও শ্রেষ্ঠ কার্যক্ষমতার নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি এই কম্প্রেসর ওয়ালটনের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন টিমের আরেকটি অসাধারণ সাফল্য। এই অর্জনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো—বাংলাদেশ বিশ্বমানের শিল্প ও প্রকৌশল উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
তিনি জানান, কম্প্রেসর বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত, যার বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। ওয়ালটনের লক্ষ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কম্প্রেসর রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। ইতোমধ্যে ওয়ালটনের তৈরি কম্প্রেসর ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসিসি ব্র্যান্ডের কাপ্পা কম্প্রেসর উৎপাদন শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুব শিগগিরই শতাধিক দেশে কম্প্রেসরসহ রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়ালটন কম্প্রেসরের চিফ বিজনেস অফিসার এস এম আলমাস রহমান বলেন, কাপ্পা কম্প্রেসরে কমপ্যাক্ট ডিজাইন, উচ্চ কার্যদক্ষতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের অনন্য সমন্বয় রয়েছে। ছোট আকারের কারণে এটি রেফ্রিজারেটরের অভ্যন্তরের মূল্যবান জায়গা সাশ্রয় করে এবং একই সঙ্গে বিস্তৃত কুলিং ক্যাপাসিটি নিশ্চিত করে।
তিনি আরও জানান, ২.১৫-এর অধিক সিওপি (কোইফিসিয়েন্ট অফ পারফরমেন্স) এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে এই কম্প্রেসর সহজেই ৫-স্টার এনার্জি এফিসিয়েন্সি মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম। এছাড়া ৮৫ ভোল্ট থেকে ৩০০ ভোল্ট পর্যন্ত ওয়াইড ভোল্টেজ রেঞ্জে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারায় অতিরিক্ত স্ট্যাবিলাইজার ছাড়াই এটি নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেয়, যা গ্রামীণ ও ভোল্টেজ ওঠানামাপ্রবণ এলাকার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এর আল্ট্রা লো নয়েজ লেভেল গ্রাহকের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।
জানা গেছে, ওয়ালটন দেশের একমাত্র কম্প্রেসর শিল্প স্থাপন করায় বাংলাদেশ এশিয়ার অষ্টম এবং বিশ্বের ১৫তম কম্প্রেসর উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। ওয়ালটনের কম্প্রেসর কারখানায় রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের উৎপাদন লাইন, আধুনিক মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার এবং অত্যাধুনিক ল্যাব সরঞ্জাম ও মেশিনারিজ। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে কম্প্রেসর উৎপাদন শুরু করার মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ইউরোপে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে ওয়ালটন। এছাড়া ২০২২ সালে ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী ইতালিয়ান ব্র্যান্ড এসিসি’র কম্প্রেসর ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট, প্রযুক্তি ও মেধাস্বত্ব অধিগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি।