গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)।
রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়। বহিরাগত কাউকে নিয়োগ দেয়া হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ মেনে নিবেন না উল্লেখ করে মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
তাদের দাবি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বহু সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। এমন বাস্তবতায় বহিরাগত কাউকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা, বিভাজন ও অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। যা একটি অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কৃষি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার এক গর্বিত আলোকবর্তিকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক অঙ্গনেও নিজেদের অনন্য সক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও পরীক্ষিত শিক্ষকগণের মূল্যায়ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রত্যাশা।
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্মরণকালের অন্যতম সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা, একাডেমিক সংস্কৃতি ও গবেষণার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন। যারা এই প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা, সংকট ও সম্ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও একাডেমিক অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এমই