কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
আসামিদের মধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আবদুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ২৭ জুলাই রাতে মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছিল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
যেভাবে নিহত হন একরামুল
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
তার মৃত্যুর ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।
মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাসহ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।