হোম > আইন-আদালত

অটোরিকশা চালককে হত্যার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর কদমতলীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক কিশোর ইমন কাজী হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় মাত্র ১২ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করেছে আদালত। রায়ে আসামী মো. আল-আমিন শেখকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার সকালে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরীর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম কাইয়ুম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ​রায়ে আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে পৃথকভাবে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয় দণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে। তবে আসামীর পূর্বে কাটানো হাজতবাসের মেয়াদ মূল কারাদণ্ড থেকে বাদ যাবে বলে বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, মাত্র ১২ কার্যদিবসে মামলার শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত। পরে সাজা পরোয়ানামূলে আসামীকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত ও ​মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ মে সন্ধ্যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন কিশোর ইমন কাজী। গভীর রাতে গেন্ডারিয়া থানাধীন ফরাশগঞ্জ মামুর মাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে ভিকটিমের রিকশাটি উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৩১ মে কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ইমনের পিতা মো. লিটন। নিখোঁজের চার দিন পর ৩ জুন রাতে পশ্চিম মোহাম্মদবাগের একটি পতিত জমির ঝোপের ভেতর ডোবা থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি পরবর্তীতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন ২০২৩ সালের ৫ জুন রাতে বরিশাল জেলার হিজলা থানাধীন গোবিন্দপুর খন্না গ্রাম থেকে আসামী আল-আমিন শেখকে গ্রেফতার করা হয়। ​তদন্তে প্রকাশ পায়, পারিবারিক পরকীয়ার সন্দেহ এবং ধার দেওয়া ৫,০০০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ইমনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইমনকে নিজ ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়ের (কোক) সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় আল-আমিন। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন দুপুরে বাজার থেকে বস্তা ও রশি কিনে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রিকশাযোগে একটি নির্জন ডোবায় ফেলে দেয় সে। আসামীর দেয়া স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসা থেকে রক্তমাখা বিছানার চাদর এবং ইমনের ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনায় দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেয় আল আমিন।

পরে ​তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও স্বীকারোক্তি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

শিক্ষিকা রনজিনা হত্যা: দুই সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার মোটরসাইকেল নিয়ে প্রশ্ন

সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচী

বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনার বিচার হবে ফৌজদারি আদালতে, আইসিটিতে নয়

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেবে সাগর-রুনির পরিবার

ঋণের ২০ টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে খুন, শাস্তি যাবজ্জীবন

পাকিস্তান হাই কমিশনের পাশ থেকে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

সাগর-রুনি হত্যায় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে

হাসিনা-জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

বিএনপি নেতা ইসহাক হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমর গ্রেপ্তার