১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৯ অগাস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন, যুবলীগ নেতা মোত্তালিব, মো. রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, মো. রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, মো. সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহীন হোসেন ইমন ও যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা। তারা নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান।
রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গোপন খবরের ভিত্তিতে ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ভাটারা থানা পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ অগাস্ট উপলক্ষ্যে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়।
ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা বলা ছিল। আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করছিল। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করার স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসলাম মিয়া রাকিব তাদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাশকতা ও দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ভাটারা থানা পুলিশ। পুলিশ উপস্থিত হলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়। এ মামলায় ১৪ আগস্ট বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।