জুলাই হত্যাকাণ্ড
জুলাই বিপ্লেবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধের মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠনিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।
শুনানিতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নানান উসকানি দেন কামরুল ও মেনন। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন।
তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর লেথাল উইপেন ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট সময়ে ছাত্র-জনতার ওপরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিওর কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির দায় আনা হয়।
শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুরে আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এরপর আসামিদের পক্ষে বক্তব্য তুলে সময়ের আরজি জানান আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। পরে আগামী ১১ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন কামরুল। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তারা।
এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কামরুল ও মেননকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন কামরুল। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তারা।