হোম > আইন-আদালত

বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত পরিণতি, আদাবর হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তার ৪

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় একটি তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ডে দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে হত্যাকাণ্ডের মাত্র একদিনের ব্যবধানে চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মো. মিজানুর রহমান (৪০)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই রাতে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় এলাকায় পূর্ববিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার (৪৫) এবং একই ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫)। স্থানীয়রা তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশার মারা যান। আহত সাদ্দাম এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে। পরবর্তী কয়েক দিনে ওই বিরোধ একাধিকবার উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ জুলাই রাতে নবোদয় কাঁচাবাজারসংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠকের শেষ মুহূর্তে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তখনই ধারালো অস্ত্রের হামলার শিকার হন আবুল বাশার ও সাদ্দাম। ঘটনার পর পৃথক অভিযানে আদাবর থানা পুলিশও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে ডিবির অভিযানে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সামান্য একটি সামাজিক বিরোধ সময়মতো কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা ক্রমে সহিংস রূপ নেয়। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পনা বা প্ররোচনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তারা।

সাঈদীর সাক্ষীর অপহরণকারী সাবেক এএসপি ফজলুর

সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারীদের একজন গ্রেপ্তার

হাইকোর্টে একদিনে নিষ্পত্তি ২ হাজার ৪১১ পুরোনো মামলা

বিপিএল ও স্টেডিয়াম নির্মাণে দুর্নীতি, পাপনের নথিপত্র তলব দুদকের

বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ কি না জানা যাবে ৯ জুলাই

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ৬ টুকরো, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

এবার বিস্ফোরক আইনের মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তারের আবেদন

খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

প্রতারণা মামলায় এএসপি সোহেল কারাগারে