আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তলব করা হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এসময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আদালত রাষ্ট্রের অংশ। ফজলুর রহমানের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর ফজলুর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়, তিনটি কারণে ফজলুর রহমান আদালত অবমাননা করেছেন—ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করা, আদালতের নিরপেক্ষতায় প্রভাব ফেলে এমন ‘অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার’ অভিযোগ তোলা এবং প্রসিকিউশন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা।
শুনানিতে প্রসিকিউশন চ্যানেল ২৪-এর টকশো ‘মুক্তবাক : রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’ থেকে একটি ভিডিও দেখানো হয়।
ভিডিওতে ফজলুর রহমান বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি, এই কোর্ট আমি মানি না। তখন উপস্থাপক বলেন, মিডিয়া কী জানতে পারেনি? জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, সবাই জানে, জানবে না কেন? আমার ইউটিউব শোনেন। ইউটিউবে বলেছি, টকশোতে বলছি।
প্রতিদিন বলছি, ‘এই কোর্টের বিচার আমি মানি না।’
প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন না বুঝেই ফজলুর রহমান এসব মন্তব্য করেছেন। তিনি বিএনপির একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা, দলের মনোনীত সংসদসদস্য পদপ্রার্থী এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী।
পরে তামিম ট্রাইবুনালকে বলেন, ফজলুর রহমান বলেছেন যে তিনি ট্রাইব্যুনালকে মানেন না, কারণ এটি ১৯৭১ সালের রাজাকারদের বিচার করার জন্য গঠন করা হয়েছিল।
এর জবাবে বিচারক মো. মুহিতুল হক আনাম চৌধুরী বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ সালে প্রণীত হয়েছে এবং এর আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এ আইনের আওতায় করা যায়।
ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, ‘প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের একীভূত অংশ।’
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগগুলোকে গুরুতর হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং এবিষয়ে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।