হোম > আইন-আদালত

সুরঞ্জিতের জনসভায় বোমা হামলা মামলায় খালাস পেলেন আরিফ-বাবর-গউছ

সিলেট ব্যুরো

ছবি: আমার দেশ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর জনসভায় বোমা হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলার রায় দীর্ঘ ২২ বছর পর ঘোষণা করা হয়েছে। মামলায় আলোচিত আসামি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী (সাবেক সিলেট সিটি মেয়র) আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ আটজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

আলোচিত এ মামলায় জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে নিমুকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার রায়ে আজিজ নাঈম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রায় দিয়েছেন। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।

এদিকে, রায়ের পর আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছ আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের রায়ের এ তথ্য জানান। তারা শুকরিয়া প্রকাশ করে জানান, আমাদের ওপর অনেক জুলুম-অত্যাচার করা হয়েছে। দীর্ঘ অনেক বছর পর ন্যায় বিচার হয়েছে।

রায় প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এ মামলায় আসামি করে। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে তাদের নাম ঢুকানো হয়। আজ রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়। দীর্ঘদিন আমি কারাবন্দি ছিলাম।। আজকে যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে তারা পালিয়েছে। আর আমরা খালাস পেয়েছি।

হুইপ জিকে গৌছ বলেন, এ মামলায় মামলাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়। আজকে রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।

আদালত সূত্র জানায়, এর আগে এ বছরের এপ্রিল মাসে আলোচিত এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেই সঙ্গে গত ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক।

শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

উল্লেখ, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্বাচনি এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

গ্রেনেড বিস্ফোরণে নৌকার মাঝি ও যুবলীগের কর্মী আব্দুল ওয়াহিদ (৪৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এরপর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সম্পূরক চার্জশিটে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে এক আসামি মারা যায়।

এএস

চেক ডিজঅনার মামলায় আসামির বদলে প্রক্সি দিতে এসে নারী আটক

ছেলে হত্যার বর্ণনা দিয়ে নানক-তাপসদের শাস্তি চাইলেন শহীদ ফাইয়াজের বাবা

জামায়াতপন্থি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত

এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল মমতাজকে

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, আইনজীবী ৪ দিনের রিমান্ডে

আমি গ্রেপ্তার করে দিলে দুজনকেই ক্রসফায়ার দেয়

শেষ হলো বেনজীরের বিরুদ্ধে আট জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

একযোগে ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

গুলিবিদ্ধ মারুফের মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন সাকিব