হোম > আইন-আদালত

দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ৬ টুকরো, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যার পর লাশের শরীর ৬ টুকরো করার দায়ে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ১৬তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপুর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বলেন, হত্যার দায়ে ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের দায়ে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে বনানী থানা-পুলিশ। একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছ থেকে একটি ব্যাগের ভেতর উরু থেকে খণ্ডিত দুটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ। দুই দিনে আলাদা আলাদা স্থান থেকে লাশের ৬টি টুকরো উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।

এরপর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় ফাতেমাকে। পরে ফাতেমা পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পনা করে তার অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন এবং পরবর্তীতে গলা কেটে লাশ ৬ টুকরো করেন। একটি লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশ একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন ফাতেমা।

এরপর ১,৩০০ টাকায় রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন; পরবর্তীতে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগটি রেখে বাসায় চলে আসেন। সেখান থেকে খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগটি নিয়ে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে আবার বাসায় ফেরেন তিনি।

এ ঘটনায় নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ফাতেমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

বিপিএল ও স্টেডিয়াম নির্মাণে দুর্নীতি, পাপনের নথিপত্র তলব দুদকের

বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ কি না জানা যাবে ৯ জুলাই

এবার বিস্ফোরক আইনের মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তারের আবেদন

খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

প্রতারণা মামলায় এএসপি সোহেল কারাগারে

অর্থপাচার মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৩ জুলাই

বেনজীরের বিরুদ্ধে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

নামাজরত মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

ফ্যাসিস্টের দোসর বিচারপতি খায়রুলের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই