হোম > আইন-আদালত

বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে নদীতে ফেলে দিতেন জিয়াউল

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার

মাঝি আব্বাস উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার বলেশ্বরী নদীতে ২০১০ সালের দিকে বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান হাত পা বাঁধা বন্দিদের নিয়ে মাথায় গুলি করে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেধে ফেলে দিতেন বলে জবানবন্দিতে বলেছেন বোটের মাঝি আব্বাস উদ্দিন।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধীর অপরাধের মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে আব্বাস উদ্দিন বলেন, আমার বর্তমান বয়স ৬০ বছর। আমার ছোট ভাইয়ের নাম আলকাছ মল্লিক, নিখোঁজ। আলকাছ মল্লিক মাঝে মধ্যে আমাদের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে যেতো। মাঝে মাঝে মুদি দোকানে বসতে।

২০১০ সালে র‍্যাব চরদুয়ানী এবং কাঠালতলীতে আসা-যাওয়া করতো। র‍্যাব সদস্যরা বোট মালিকদের ডেকে বলে ট্রলার বা বোট অভিযান পরিচালনার জন্য দিতে হবে। যে দিন র‍্যাব আমাদের এলাকায় আসতো ওই দিন বিকালে সাদা পোষাকে দুইজন র‍্যাব সদস্য আমাদের এলাকায় আসতো। দোকানের মালিকদেরকে ডেকে বলতো সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ থাকবে এবং দোকানের বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে। রাত ১১টা বা সাড়ে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রো গাড়ি আসতো। গাড়িগুলো বরফ মিলের সামনে থামতো। এরপর গাড়ী থেকে বন্দীদের বোটে নিয়ে তুলতো। ওই বন্দীদের ঢাকা থেকে নিয়ে আসতো। বন্দীদের হাত এবং চোখ বাঁধা থাকতো। বন্দীদের বোটে উঠানোর পর তাদের সাথে সিমেন্টের বস্তা, রশি ও হোগলা রিয়াজের দোকান থেকে নিতো। এরপর আমাদের বোট চালাতে বলতো। চরদুয়ানি দিয়ে বলেশ্বরী নদীতে যেতাম।

তিনি বলেন, আমাদের আরো গভীর পানিতে যেতে বলা হতো। আমরা সেখান থেকে এক দেড় ঘণ্টা বোট চালিয়ে গভীর পানিতে যেতাম। গভীর পানিতে গিয়ে আমরা বোট ধীর গতিতে চালাতাম। ট্রলারের পাটাতনের নিচকে বলে খোন্দা আর উপরের ছাউনি সম্বলিত ঘরকে বলে ব্রিজ। গভীর পানিতে যাওয়ার পর বন্দিদেরকে ব্রিজ এবং খোন্দা থেকে বের করে আনতো। আমাদের ট্রলার বা বোটের দুই সাইডে সাপোর্ট নামক একটি অংশ থাকে। একজন বন্দীকে বের করার পরে দুইজন র‍্যাব সদস্য ওই বন্দীকে সাপোর্টের উপর বসিয়ে চেপে ধরে রাখতো। এরপর জিয়া স্যার বন্দীর মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতো। কোন বন্দীকে একটি গুলি করতো কোন বন্দীকে দুইটি গুলি করতো। এরপর মৃত বন্দীর গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

জবানবন্দিতে আব্বাস বলেন, এভাবে এক এক করে মারার পর সুন্দরবন যেতো। সুন্দরবন যাওয়ার পর অন্য বন্দীদের বোট থেকে বের করে নাটক সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হতো। এরপর র‍্যাব সাংবাদিকদেরকে ফোন দিয়ে ডেকে আনতো। এরপর বিভিন্ন থানায় লাশগুলো জমা দিতো। এরপর বোটগুলোকে ধুয়ে আমরা চর দুয়ানীতে আসতাম। বোট ধোয়ার প্রয়োজন হতো এই কারণে যে বন্দীদের পেট কেটে ফেলা হতো এর ফলে নাড়ী ভূরি বের হয়ে আসতো, মগজ বের হয়ে আসতো এবং বন্দীদের শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হতো। এরপর আমরা সুন্দরবন থেকে চর দুয়ানী বরফ মিলে ফিরে যেতাম।

মেজর সাব্বির বলতো, তোমাদেরকে জিয়া স্যার ডাকে। আমরা জিয়া স্যারের কাছে যেতাম। আমরা জিয়া স্যারের কাছে গেলে তিনি আমাদের প্রত্যেককে কখনও দুই হাজার কখনও পাঁচ হাজার টাকা দিতেন। ওই টাকাগুলো খামে করে দেওয়া হতো।

আব্বাস মাঝি বলেন, আমার ছোট ভাই আলকাছ র‍্যাবের সঙ্গেই কাজ করতো।

২০১১ সালে মাঝা-মাঝি কোনো একদিন র‍্যাব থেকে আলকাছ মাঝিকে ফোন দিয়ে বলা হয়, জিয়া স্যার তোমাকে বটতলা মানিকখালী আসতে বলেছে। র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলকাছ মাঝি বাজারে আলোচনা করতো। তখন অন্যান্য বোটের মালিকরা আলকাছকে বলতো, "র‍্যাব তোমার উপর খুব খ্যাপা। ২০১১ সালে মাঝা-মাঝি কোন একদিন র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে আলকছাকে ফোন করা হলে ওই দিনেই আলকাছ দুপুরে ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭ বা ৮টার দিকে আলকাছের স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে বলে, মাইজা ভাই, আলকাছ র‍্যাবের ফোন পেয়ে জিয়া স্যারের সঙ্গে দেখা করতে বটতলা মানিকখালী গেছে এখন তার ফোন বন্ধ পাচ্ছি। এরপর আমরা তাকে খোঁজাখুজি করে তাকে না পেয়ে থানায় যাই। থানার লোকজন বলে আপনারা খুঁজে দেখেন। এরপর আমরা বিভিন্ন জায়গায় গেলাম। খুলনা র‍্যাব অফিস, পটুয়াখালী র‍্যাব অফিস, বরিশাল র‍্যাব অফিস এবং ঢাকা র‍্যাব অফিসে তার সন্ধান করি। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি। এরপর আমরা পাথরঘাটা থানায় একটি জিডি করি। এরপর আমরা থানায় জিয়া স্যারের নাম ও র‍্যাবের নাম লিখতে বলি। কিন্তু তারা জিয়া স্যারের নাম ও র‍্যাবের নাম লিখে না। আমার ভাইকে আর কোথাও খুঁজে পাইনি। আমি আমার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজের জন্য জিয়া স্যারের বিচার চাই। আমি ওই সময় জিয়া স্যারকে দেখেছি। আজ তিনি কোর্টে উপস্থিত আছেন।

এএস

প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশার আপিল, জামিন নামঞ্জুর

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালাও বাতিল হচ্ছে

হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ফের পেছাল

ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় টিউলিপের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ফের পেছাল

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে মামলা

রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে দুর্নীতি, রানাসহ ৮ জনের রায় পিছিয়েছে

মালয়েশিয়া যেতে ১৭ হাজার কর্মীকে অগ্রাধিকারের নির্দেশ হাইকোর্টের

সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকা নিহত: তিন আসামির ৫ দিনের রিমান্ড

ছাত্রলীগ নেত্রী কেয়া রিমান্ডে

হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা