হোম > আইন-আদালত

বন্দিদের গুলি করে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলতেন জিয়াউল

ট্রাইব্যুনালে প্রত্যক্ষদর্শীর আব্বাস উদ্দিন মাঝির জবানবন্দি

স্টাফ রিপোর্টার

মাঝি আব্বাস উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে ২০১০ সালের কোনো এক রাতে হাত-পা বাধা কয়েকজন বন্দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানিতে। সেখান থেকে গভীর রাতে বন্দিদের নেওয়া হয় বলেশ্বরী নদীর মাঝ নদীতে। এরপর বোর্টের ভিতর থেকে বন্দিদের একে একে তুলে এনে মাথায় গুলি করে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে ফেলে দিতেন তৎকালীন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রত্যক্ষদর্শী আব্বাস উদ্দিন মাঝির জবানবন্দিতে এসব তথ্য ওঠে আসে।

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের দুঃশাসনের সময় শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধর অপরাধের মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি। সকালে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যূনালে হাজির করা হয়। এদিন প্রথমবারের মতো তাকে হ্যান্ডকাফ ও ভেস্ট পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে কারা কতৃপক্ষ।

জবানবন্দিতে আব্বাস উদ্দিন মাঝি বলেন, আমার বর্তমান বয়স ৬০ বছর। আমার ছোট ভাইয়ের নাম আলকাছ মল্লিক, সে নিখোঁজ। আলকাছ মল্লিক মাঝে মধ্যে আমাদের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে যেতো, মাঝেমাঝে মুদি দোকানে বসতে। ২০১০ সালে র‍্যাব চরদুয়ানি ও কাঠালতলীতে আসা-যাওয়া করতো। র‍্যাব সদস্যরা বোট মালিকদের ডেকে বলেন ট্রলার বা বোট অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের দিতে হবে। যে দিন র‍্যাব আমাদের এলাকায় আসতেন, ওই দিন বিকালে সাদা পোশাকে দুইজন র‍্যাব সদস্য আমাদের এলাকায় আসতেন। তারা দোকানের মালিকদের ডেকে বলতেন সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ থাকবে এবং দোকানের বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে। রাত ১১টা বা সাড়ে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ থেকে ৫ টি মাইক্রো গাড়ী আসতো। গাড়ীগুলো বরফ মিলের সামনে এসে থামতো। এরপর গাড়ী থেকে বন্দিদের নিয়ে তোলা হতো বোটে। ওই বন্দিদের ঢাকা থেকে আনা হতো এবং তাদের হাত-চোখ বাঁধা থাকতো। সঙ্গে থাকতো সিমেন্টের বস্তা ও রশি। এরপর তাদের চরদুয়ানি দিয়ে বলেশ্বরী নদীর মাঝে নিয়ে যেতাম।

তিনি বলেন, আমাদের আরো গভীর পানিতে যেতে বলা হতো। আমরা সেখান থেকে এক দেড় ঘন্টা বোট চালিয়ে গভীর পানিতে যেতাম। সেখানে গিয়ে বোট ধীর গতিতে চালাতে বলতো। গভীর পানিতে যাওয়ার পর বন্দিদের পাটাতনের নিচ থেকে করে আনতো তারা । আমাদের ট্রলার বা বোটের দুই সাইডে সাপোর্ট নামে একটি অংশ থাকে। একজন বন্দিকে বের করার পর সাপোর্টের উপর বসিয়ে দুইজন র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতো। এরপর জিয়া স্যার বন্দিদের মাথায়, কানে অথবা বুকে গুলি করতো। কোনো বন্দিকে একটি গুলি করতো, কোনো বন্দিকে দুটি গুলি করতো। পরে গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

জবানবন্দিতে আব্বাস আরো বলেন, এভাবে এক এক করে মারার পর সুন্দরবন যেতো। সুন্দরবন যাওয়ার পর অন্য বন্দিদের বোট থেকে বের করে নাটক সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হতো। তখন র‍্যাব সাংবাদিকদেরকে ফোন দিয়ে ডেকে আনতো। পরে বিভিন্ন থানায় লাশগুলো জমা দেওয়া হতো। বোটগুলোকে ধুয়ে আমরা চর দুয়ানীতে আসতাম। বোট ধোয়ার প্রয়োজন হতো, কারণে বন্দিদের পেট কেটে ফেলার পর নাড়িভুঁরি বের হয়ে যেত এবং মাথায় গুলি ফলে মগজ বের হয়ে আসতো । বন্দিদের শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হতো। এরপর আমরা সুন্দরবন থেকে চরদুয়ানি বরফ মিলে ফিরে যেতাম। মেজর সাব্বির বলতেন, তোমাদেরকে জিয়া স্যার ডাকঝে। আমরা জিয়া স্যারের কাছে গেলে তিনি আমাদের প্রত্যেককে কখনও দুই হাজার, কখনও পাঁচ হাজার টাকা দিতেন। ওই টাকাগুলো খামে করে দেওয়া হতো।

আব্বাস মাঝি বলেন, আমার ছোট ভাই আলকাছ র‍্যাবের সঙ্গেই কাজ করতো। ২০১১ সালে মাঝামাঝি কোনো একদিন র‍্যাব থেকে আলকাছ মাঝিকে ফোন দিয়ে বলা হয়, জিয়া স্যার তোমাকে বটতলা মানিকখালী আসতে বলেছেন। র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলকাছ মাঝি বাজারে আলোচনা করতো। ওই দিনেই আলকাছ দুপুরে ভাত খেয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭ বা ৮ টার দিকে আলকাছের স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে বলে, মাইজা ভাই, আলকাছ র‍্যাবের ফোন পেয়ে জিয়া স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গেছে, এখন তার ফোন বন্ধ পাচ্ছি। এরপর আমরা তাকে খোঁজাখুজি করে তাকে না পেয়ে থানায় যাই। থানার লোকজন বলে আপনারা খুঁজে দেখেন। এরপর আমরা বিভিন্ন জায়গায় গেলাম। খুলনা র‍্যাব অফিস, পটুয়াখালী র‍্যাব অফিস, বরিশাল র‍্যাব অফিস এবং ঢাকা র‍্যাব অফিসে তার সন্ধান করি। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি। পরে আমরা পাথরঘাটা থানায় একটি জিডি করি। আমরা জিডিতে জিয়া স্যারের নাম ও র‍্যাবের নাম লিখতে বলি। কিন্তু তারা নাম লিখে না। আমার ভাইকে আর কোথাও খুঁজে পাইনি। আমি আমার ছোট ভাই আলকাছ মল্লিকের নিখোঁজের জন্য জিয়া স্যারের বিচার চাই। আমি ওই সময় জিয়া স্যারকে দেখেছি। আজ তিনি কোর্টে উপস্থিত আছেন।

গেজেট-বঞ্চিতদের অনশন থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী আটক

মিরপুরে চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগে ফোর স্টার গ্রুপের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার ৪ দিনের রিমান্ড

ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টে স্থগিত

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগারওয়ালা ১ দিনের রিমান্ডে

গণহত্যায় দণ্ডিত ইনুকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ

অভিযোগ দাখিলের আট মাসেও শুরু হয়নি বিচার

হাসিনার নির্দেশে, জয়ের পরামর্শে ইন্টারনেট বন্ধ করেন পলক

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

অর্থ পাচারের মামলায় অ্যাপল গ্লোবালের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার ২২ বছরের কারাদণ্ড