নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। মহানগর দায়রা আদালতও। এর আগে নিম্ন আদালতেও জামিন মেলেনি। এখন মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২৭ আগস্টের রিমান্ড শুনানি। এর মাত্র তিন দিন পর, ৩০ আগস্ট সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এটি ডনের জামিনের দ্বিতীয় প্রত্যাখ্যান। এর আগে ১২ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল। ফলে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ২৯ বছর আগের আলোচিত মৃত্যুর মামলায় প্রথম সারির একজন অভিযুক্তকে সরাসরি হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছেন। ২০ আগস্ট করা ওই আবেদনের শুনানি আগামী ২৭ আগস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। সেদিন ডনকে আদালতে হাজির করা হবে। সিআইডির আবেদনে মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য সহযোগী বা সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ডনের বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা নিয়ে তথ্য জানার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর পর প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আইনি লড়াই শুরু হয়। ১৯৯৭ সালে সিআইডির তদন্তে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ও একাধিক তদন্ত ও অনুসন্ধানে হত্যার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ার কথা উঠে আসে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সামিরা হকের পাশাপাশি তাঁর মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদের নাম রয়েছে।