চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩২ শিক্ষক পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়াই অধ্যাপক হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ জন অধ্যাপক, ১৩৩ জন সহযোগী অধ্যাপক এবং ২৪৭ জন পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ১১৫ প্রভাষকের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে মাত্র একজনের।
সূত্রমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৭৫ জনের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়টির ৫৬ শতাংশ শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক হয়েছেন ৯ জন। এছাড়া সহযোগী অধ্যাপক ৫৬ জন এবং ৭০ জন সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন। এর বাইরে এই অনুষদের ২৩ জন প্রভাষকের মধ্যে একজনেরও পিএইচডি ডিগ্রি নেই।
বিজ্ঞান অনুষদে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক ১০, সহযোগী অধ্যাপক ১১ এবং সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন ৪০ জন। এই অনুষদেও ১২ প্রভাষকের পিএইচডি ডিগ্রি নেই।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক হয়েছেন ১২ জন। এ ছাড়া পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন যথাক্রমে ১৯ ও ২৪ জন। এ অনুষদেও ৬ প্রভাষকের পিএইচডি ডিগ্রি নেই।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান, আইন, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদে পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া অধ্যাপক হয়েছেন ২১ জন।
এ ছাড়াও সহযোগী অধ্যাপক ৫৭ জন এবং সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন ১১৩ জন। এই অনুষদগুলোর ৭৭ প্রভাষকের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে মাত্র একজনের।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একাডেমিক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান আমার দেশকে বলেন, আমরা শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় পিএইচডি ডিগ্রিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে মানসম্মত পিএইচডি ডিগ্রি পেলে তাদের অবশ্যই অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
ইনডেক্স জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশিত হওয়া ছাড়া কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা শিক্ষকদের বারবার জ্ঞান-গবেষণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
এ ছাড়া আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সব শিক্ষককে বলার চেষ্টা করছি যে, ইনডেক্স জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশিত হওয়া ছাড়া কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সবাইকে পিএইচডি করার জন্য উৎসাহিত করছি, যাতে গবেষণার মান উন্নত হয় এবং একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়।