বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যাংকার মো. সেলিম মিয়া এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গত অক্টোবরের প্রথম দিকে নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ার অজুহাতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেন। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির পরিবর্তে নতুন কমিটি গঠন না করে আগের কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকা এবং গ্রামগঞ্জে নির্বাচনি আবহ বিরাজ করার পরও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজনে শিক্ষা প্রশাসন ও বোর্ডগুলোর ব্যর্থতা বোধগম্য নয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সরকারের অভ্যন্তরে থাকা আমলাদের একটি অংশ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো পরিচালনা পর্ষদে সরকারি কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব ও প্রাধান্য বজায় রাখতে নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করতে গড়িমসি করছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
অভিভাবক নেতারা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংসদ সদস্যদের কমপক্ষে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি করার বিধান রেখে প্রবিধানমালা জারি করা হয়েছিল। পরে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করে তা বাতিল করা হয়।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার যদি আগের সরকারের মতো স্বেচ্ছাচারীভাবে পরিচালনা পর্ষদে আমলাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করতে গড়িমসি করে কিংবা আমলাদের মাধ্যমে তথাকথিত বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে অভিভাবকেরা আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।